1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:১২ অপরাহ্ন

উন্নয়নশীল এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে এডিবি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২

ঢাকা: এশিয়া এবং এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির আগের পূর্বাভাস থেকে সরে এসেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ব্যাংকটির প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কাটছাঁট করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে পণ্যের দর বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশে আর্থিক কড়াকড়ির কারণে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে না বলে মনে করে সংস্থাটি।


এর আগে গত এপ্রিলে এডিবি জানিয়েছিল, চলতি বছর উন্নয়নশীল এশিয়ায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। গত বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে এ হার কমিয়ে ৪ দশমিক ৬ ধরা হয়েছে। ব্যাংকটির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক নামক প্রকাশনায় এ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসও কমিয়েছে এডিবি। নতুন প্রতিবেদনে এ সংখ্যা ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের পূর্বাভাসে ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।


যদিও করোনাভাইরাস মহামারি হ্রাস পাওয়ায় এ বছর উচ্চপ্রবৃদ্ধির আশা করা হয়েছিল, কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ধারনার চেয়ে প্রলম্বিত হওয়ায় এশিয়া অঞ্চলের বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এ অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক ধাক্কা লেগেছে। যুদ্ধের কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যহত এবং রাশিয়ার উপর ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম বাড়ছে। কাঁচামালের অভাবে অন্যান্য পণ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এসব কারণে এ অঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে এডিবি। ২০২২ সালে উন্নয়নশীল এশিয়ায় গড় মুদ্রাস্ফীতি ৪ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এর আগে গত এপ্রিলে দেওয়া পূর্বাভাসে এ সংখ্যা ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এডিবির মতে, ২০২৩ সালে উন্নয়নশীল এশিয়ায় মুদ্রাস্ফীতি হবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, তবে বর্তমানে এ হার ৩ দশমিক ১ শতাংশ।


ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে আর্থিক নীতি কঠোর করতে বাধ্য করছে। এডিবি বলছে, এমন পদক্ষেপ প্রবৃদ্ধির গতিকে হ্রাস করে দিচ্ছে। এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ অর্থনীতি চীনের প্রবৃদ্ধি হ্রাসের ইঙ্গিত গড় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে প্রভাব ফেলেছে। এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে, চীনে কঠোর শূন্য করোনাভাইরাস নীতি সেদেশের অর্থনীতির গতিকে ধীর করে দিয়েছে। এ বছর চীনের সার্বিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে। এর আগে, গত এপ্রিলে চীনের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

তবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রবৃদ্ধি কিছুটা উন্নতির দিকে রয়েছে বলে জানিয়েছে এডিবি। চলতি বছর ওই অঞ্চলে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। এর আগে গত এপ্রিলে ওই অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ অর্জিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলে এডিবি। করোনা পরবর্তী সময়ে ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠায় ওই অঞ্চলের গড় প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে মনে করছে সংস্থাটি। করোনাভাইরাস মহামারি শেষে লকডাউন খোলে দেওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ায় ৫ দশমিক ২ এবং ফিলিপাইন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। লকডাউন খোলার সময় দেশ দু’টির প্রবৃদ্ধি হার ছিল ছিল যথাক্রমে ৫ ও ৬ শতাংশ।


শ্রীলংকার সংকটময় অর্থনীতি এবং ভারতে ধীরগতির কারণে দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের চেয়ে কমিয়েছে এডিবি। নতুন পূর্বাভাসে ব্যাংকটি জানিয়েছে, চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা আগের পূর্বাভাসে ছিল ৭ শতাংশ। এডিবি নতুন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কঠোর আর্থিক নীতি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে চলতি বছরে ভারতে ৭ দশমিক ২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে যা আগের পূর্বাভাসে ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

ককেশাস এবং মধ্য এশীয় উপ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও দিয়েছে সংস্থাটি। এ বছর ওই অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি আগের পূর্বাভাসের চেয়ে কম হবে। ব্যাংকটির নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে এ বছর ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে যা এর আগের পূর্বাভাসে ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া এবং তাজিকিস্তান আশঙ্কার চেয়ে ভালোভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থনৈতিক পতন সামলাতে সক্ষম হয়েছে।


এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নয়নশীল এশিয়ায় আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কড়াকড়িকে এর জন্য আংশিক দায়ী করেছে এডিবি। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কড়াকড়ির কারণে উন্নয়নশীল এশিয়া অঞ্চলে মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং ডলারের বহিঃপ্রবাহ বাড়তির দিকে বলে মনে করে এডিবি।

এডিবির প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি এবং ভোগ্যপণ্যের দর আরও বাড়তে পারে। খাদ্যের দরবৃদ্ধি ও ঘাটতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে এবং এতে সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংস্থাটির।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি