1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
  3. sayefrahman7@gmail.com : Sayef Rahman : Sayef Rahman
শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

এবার পানির দামে বিক্রি হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবারও পশুর চামড়া কেনা কাটায় মন্দাভাব, আর এতে করে বঞ্চিত হবে গরিব মানুষ। নামমাত্র দামের কারণে অনেকেই মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করে দিয়েছে। এদিকে আড়ৎদাররা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে আগের টাকা বকেয়া থাকা এবং এবার তারা করোনার কারণে ঝুঁকি নিয়ে চামড়া ক্রয় করেননি। এমনিতেই যেটুকু এসেছে তা ক্রয় করেছেন।

জানা গেছে, এ জেলায় ১৯ জন পারমিটধারী চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছে। এবার চামড়া কেনার জন্য শহরের বিভিন্ন্ এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা একেবারে ছিল না। গত কয়েকবছর লোকসানের কারণে এবার তারা আর চামড়া ক্রয় করেননি।

পাঠানপাড়া মহল্লার আমিনুর রহমান জানান, কোরবানির সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে  মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া ক্রয় করতো। এবার চিত্রটা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। এবার কেউ চামড়া ক্রয় করতে না আসায় গরু-ছাগলের চামড়া মাদরাসায় দান করে দেয়া হয়েছে। দাম মাত্র ১’শ থেকে ৩’শ টাকা। চামড়ার টাকা গরীবের হক্, এ সামান্য টাকা কিভাবে গরীবদের মাঝে বণ্টন করবো। কিন্তু আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারণে এবারও পানির দামে বিক্রি হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া।

এদিকে পুরাতন বাজারের মিলনুর রহমান জানান, গত বছর কম দামে চামড়া বিক্রি হলেও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা ছিল। তারা চামড়ার দাম নিয়ে কষাকষি করতেন। এবার তার ছিটেফোটাও দেখা যায়নি। অনেকেই এতিমখানা বা মসজিদে দান করে দিয়েছেন। এদিকে বিভিন্ন জামাতে জমা হওয়া চামড়াগুলো বিক্রি করতে এবার বেগ পেতে হয়েছে কমিটিগুলোকে।

পৌর এলাকার চামড়া বিক্রির দায়িত্বে মাদরাসা ইসলামিয়া নবাবগঞ্জের মক্তবের তসিকুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগে যেখানে একাধিক মৌসুমী ব্যবসায়ী আসতো চামড়া ক্রয় করতে, তাদের আর দেখা যায় না। বড় গরুর চামড়া আড়তে মাত্র ৩০০-৪০০ টাকায় এবং মাঝারি গরুর চামড়া ১’শ  থেকে আড়াই’শ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। পাশাপাশি খাসির চামড়া মাত্র ১৫/২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত ৪ বছর আগেও গরুর চামড়া ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় ও খাসির চামড়া ২’শ থেকে ৩’শ টাকা বিক্রি করা হয়েছিল।

জেলা শহরের নিমতলা মহল্লার চামড়া ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, নাটোরের চামড়া আড়তদের কাছে গত ৪ বছর ধরে বিপুল অঙ্কের টাকা পাওনা রয়েছে। ঈদের আগে বকেয়া দেওয়ার কথা থাকলেও তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কোনও টাকা দেননি। এতে পুঁজি হারিয়ে সঙ্কটে পড়েছেন তারা। সুবিধা পাচ্ছেন না ব্যাংক ঋণেরও।

জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেন, নাটোরের রেলগেট এলাকার চামড়া আড়াতদারদের কাছে এ জেলার চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া রয়েছে ৩ কোটি টাকা। এর ফলে ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হয়ে গেছে। ট্যানারি মালিকরাও বলে চামড়ার বিক্রি কম, কেমিক্যালের দাম বেশী এ অজুহাত দেখায় তারা। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৭ বছর ধরে চামড়া রফতানি বন্ধ থাকায় দেশে চামড়ার দাম কমে গেছে।

তিনি আরো বলেন, এ সময়ে লবণের দাম সাড়ে ৬’শ টাকা থেকে বেড়ে ৯’শ ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে খরচের পরিমাণও বেড়ে গেছে।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি