1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্রের হার বাড়বে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২

ঢাকা: জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়ানোর কারণে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও নেমে যাবে। পরিবহন খরচের পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের আয় আরও দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবে।


এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম শনিবার (৬ আগস্ট) সারাবাংলাকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়ানোর কারণে পরিবহন খরচের পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বাড়বে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ বেড়ে যাবে। আমন ধানের উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে করে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে। ফলে কৃষিখাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এতে দরিদ্র, অতিদরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বড় ধরনের চাপের ‍মুখে পড়বে। দেশে দরিদ্রের হার বাড়বে। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।’


মির্জ্জা আজিজ বলেন, ‘আন্তর্জাতিকবাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন কিছুটা নিম্নমুখী। তারপরও ভর্তুকি কমানোর কারণে সরকার দাম বাড়িয়েছে। এতে করে সরকারে ভর্তুকি আর থাকার কথা না। ফলে সরকারের উচিত হবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে এলে তা সমন্বয় করতে হবে।’

অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা যেত। তা না করে যেভাবে দাম বাড়ানো হলো তা চিন্তার বাইরে।’


তিনি বলেন, ‘এখন নিত্যপণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাবে। যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। মানুষের ব্যয় বাড়বে কিন্তু আয় না বাড়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে। ফলে অনেক মানুষ দরিদ্র থেকে অতিদরিদ্র হয়ে পড়বে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার আইএমএফ‘র ঋণ পেতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে কিনা তা বলতে পারব না। ঋণের জন্য আইএমএফের সঙ্গে সরকারের কী চুক্তি হয়েছে, তা তো আমরা জানি না। তবে সারের দাম বাড়ানোর পর পরই জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানোয় সরকার ঋণ পেতেই আইএমএফের কথা মতো তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে কিনা তা যথেষ্ট সন্দেহের কারণ রয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে বিশ্নের অনান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। তবে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিকভাবে কমলে সরকার তা সমন্বয় করলে মুল্যস্ফীতি তখন কমে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত হবে অর্থনীতিতে নিজের মতো চলতে দেওয়া। এটি করতে হলে ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদের হারে যে ক্যাপ রয়েছে সেটি তুলে দেওয়া।’


উল্লেখ্য শুক্রবার রাতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। বর্ধিত দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ও কোরোসিনের দাম ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ৮৬ টাকা থেকে ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়াও অকটেনের দাম প্রতি লিটারে ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। নতুন এই দাম ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।

এর আগে গত নভেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়েছিল। তখন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮০ টাকা লিটার। ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর বাসভাড়া বাড়ানো হয় প্রায় ২৭ শতাংশ, যা তেলের দাম বাড়ানোর হারের চেয়ে অনেক বেশি। একইভাবে তখন লঞ্চভাড়া বাড়ানো হয় ৩৫ শতাংশ। তারপরেও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিপিসি গত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই) জ্বালানি তেল বিক্রি করে ৮ হাজার ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি