1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

টিকা নেওয়া ৯৮ শতাংশের মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি: বিএসএমএমইউ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১

দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম চলছে। এই কার্যক্রম শুরু হয় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে। কোভিশিল্ড নামে পরিচিত এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন এমন ২০৯ জনের উপর পরিচালিত এক গবেষণায় তাদের শরীরে ৯৮ শতাংশ অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যারা আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের শরীরে তুলনামূলক বেশি অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এমন ফলাফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সোমবার (২ আগস্ট) ‘হিমাটোলজিক্যাল প্যারামিটার্স অ্যান্ড অ্যান্টিবডি টাইটার আফটার ভ্যাকসিনেশন অ্যাগেইনস্ট সার্স কোভ -২’ শীর্ষক গবেষণার এ ফলাফল জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

গবেষণা ফলাফলে জানানো হয়, ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের মধ্যে ৯৮ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে বাকি দুই শতাংশের মধ্যে যাদের অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়নি, তারা জটিল রোগে আক্রান্ত, অনেক বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। অবশ্যই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিতে হবে। ভ্যাকসিন নিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি একেবারেই কম।

দেশেই ভ্যাকসিন উৎপাদনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন বিএসএমএমইউ’র ভিসি। তিনি বলেন, আজকের এই গবেষণা থেকে বাংলাদেশে জনগণের উপর ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিবডির উপস্থিতির পরিবর্তন এবং পাশাপাশি ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচীতে নতুন অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডি তৈরির কার্যক্ষমতা পর্যালোচনার জন্য আরও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সেই সঙ্গে প্রথম ডোজ নেওয়ার তিন থেকে চার মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ নিলে কী পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হয় সেই বিষয়েও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সবাইকে ভ্যাকসিন অবশ্যই নিতে হবে। একইসঙ্গে ভ্যাকসিন নেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে। ভ্যাকসিন গ্রহণের উদ্দেশ্য হলো শরীরে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করা। এই অ্যান্টিবডি ভবিষ্যতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাবে। একইসঙ্গে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে রোগের জটিলতা কমাবে এবং রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি কমাবে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ভ্যাকসিন নেওয়াদের উপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ পুরুষ এবং অর্ধেকের বেশি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের সঙ্গে জড়িত। আর তাদের মধ্যে ৩১ শতাংশের আগে করোনাতে সংক্রমিত হবার ইতিহাস রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গবেষণা ফলাফলে জানানো হয়, যাদের উপর গবেষণা চালানো হয়েছে তাদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানিসহ অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। তবে এ ধরনের রোগের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভ্যাকসিন গ্রহণের পর অ্যান্টিবডি তৈরিতে কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি।

গবেষণায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে ৪২ শতাংশের ভ্যাকসিন নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সামান্য জ্বরসহ মৃদু উপসর্গের কথা জানিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও রক্ত জমাট বাঁধা বা এরকম অন্য কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গবেষণাকালীন সময়ে পরিলক্ষিত হয়নি এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সঙ্গে অ্যান্টিবডির কোনও সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি