1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

দাপুটে জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১১ জুলাই, ২০২২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির হতাশা ঘুচল ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং। দুই মিলিয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।


রোববার (১১ জুলাই) ডমিনিকার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয়েছে প্রায় দুই ঘণ্টা পর। ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪১ ওভারে। তাতে প্রথমে বোলিং করে ক্যারিবিয়ানদের ১৪৯ রানে আটকে রাখে টাইগাররা। পরে তামিম ইকবালের দারুণ শুরুর পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মাহমুদউল্লাহর কার্যকরী ব্যাটিংয়ে ৩১.৫ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য ১৫১ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ।

১৫০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। আকিল হোসেনের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি ডিফেন্ড করতে গিয়ে মিস করে এলবিডব্লিউ হয়েছেন লিটন দাস। দলীয় রান তখন মাত্র ৯। তবে তামিম ইকবাল চাপটা জেঁকে বসতে দেননি।


আক্রমনাত্মক ব্যাটিংয়ে রান তোলার গতিটা ঠিক রেখেছিলেন তামিম। যদিও দুর্ভাগ্যবশত নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তামিমের ৩০ বলে ৪০ রানের জুটিটা বড় হয়নি। শান্তর ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ২৫ বলে ৪টি চার ১টি ছয়ে ৩৩ রান করে ফিরেন তামিম।

তাতে অবশ্য বিপদে পড়তে হয়নি বাংলাদেশকে। মাহমুদউল্লাহ ক্রিজে গিয়ে শুরুতে স্বাচ্ছেন্দে ছিলেন না। তবে অনেকদিন পর ওয়ানডে একাদশে ফেরা নাজমুল হোসেন শান্ত বেশ ছন্দেই ব্যাটিং করেছেন। গুড়াকেশ মোতির ফ্লাইট ডেলিভারিতে মিড উইকেটে ক্যাচ হওয়ার আগে ৫ চারে ৪৬ বলে ৩৭ রান করেছেন শান্ত।


তারপর আফিফ হোসেন ধ্রুব সুবিধা করতে পারেননি। ১৯ বল খেলে ফিরেছেন ৯ রান করে। তবে মাহমুদউল্লাহ ততক্ষণে উইকেটে সেট হয়ে যান। উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানও শেষের দিকে আর বিপদ হতে দেননি। পঞ্চম উইকেটে ৫৪ বলে ৪০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশের ছয় উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছেন দুজন।

মাহমুদউল্লাহ ৬৯ বল খেলে ৪১ রানে অপরাজিত ছিল। ২৭ বলে ২০ রান করে অপরাজিত ছিলেন নরুল হাসান সোহান। এর আগে বোলিংয়ে জাদু দেখিয়েছেন শরিফুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদে, তাসকিন আহমেদরা।

মন্থর ও ভাসমান বাউন্সের উইকেটে শুরু থেকেই ক্যারিবিয়ানদের চাপে রাখেন বাংলাদেশি বোলাররা। তরুণ পেসার শরিফুল ইসলাম ৩৪ রানে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৪ উইকেট ও মেহেদি হাসান মিরাজ ৩৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের দেড়শ পর্যন্তও যেতে দেননি।


অভিষিক্ত নাসুম আহমেদকে দিয়ে ইনিংসের সূচনা করান তামিম ইকবাল। নাসুমের স্পিনের শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিল প্রতিপক্ষ। প্রথম পাঁচ ওভারে মাত্র ৩ রান খরচ করেছেন অভিষিক্ত স্পিনার। অভিষেকে উইকেট না পেলেও ৮ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ১৬ রান, মেডেন ৩টি।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ধাক্কাটা দেন মোস্তাফিজুর রহমান। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শাই হোপকে ফেরান মোস্তাফিজ। ১২তম ওভারে অস্বস্তিতে থাকা কাইল মায়ার্সকে সরাসরি বোল্ড করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। মিরাজের বলে ইনসাইড দ্য লাইন খেলার চেষ্টা করে লাইন মিস করে বোল্ড মায়ার্স। সেখানেই ভীতটা নড়ে গিয়েছিল।

স্বাগতিকরা বড় ধাক্কাটা খায় ২১তম ওভারে। পরপর দুই বলে ব্রেন্ডন কিং, সামার্থ ব্রোকসকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। রান আসছিল না। ফলে শরিফুলকে বুঝি আক্রমণ করার প্ল্যান কষেছিলেন দুজন। কিন্তু তাতেই বড় খেসারতটা দিতে হলো। শরিফুলকে সোজা তুলে মারতে গিয়ে বল হাওয়ায় ভাসিয়ে বদলি ফিল্ডার এনামুলের ক্যাচ হয়েছে ব্রেন্ডন। ফেরার আগে ৮ রান করতে খেলেছেন ৩১ বল। পরের সুইং বলে দাঁড়িয়ে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পরার আগে ৩৩ রান করতে ৬৬ বল খেলেছে ব্রোকস।

এরপর রভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে হাল ধরার চেষ্টা করেন নিকোলাস পুরনা। টি-টোয়েন্টি সিরিজে এই দুজন বড্ডই ভুগিয়েছেন বাংলাদেশকে। তবে আজ ওয়ানডেতে বেশিদূর এগুতে পারেননি দুর্দান্ত মিরাজে। ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছিলেন দুজন। দুজনকেই দারুণ দুটি বলে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কামড় অনেকটা ভেঙে দিয়েছেন মিরাজ।

টার্ন করে লেগ স্টাপে পরা মিরাজের বলটা সরে গিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন পাওয়েল। কিন্তু ব্যাটের সংযোগ করতে পারেননি। রিভিউ নিয়েও পরে এলবিডব্লিউ থেকে বাঁচতে পারেননি পাওয়েল, ১১ বলে ফিরেন ৯ রান করে। খানিক বাদে ২৪ বলে ১৮ রান করা পুরানকে সরাসরি বোল্ড করেন মিরাজ।

সেই মিরাজই দারুণ এক থ্রোতে আকিল হোসেনকে (৩) রান আউট করেছেন। কিছুক্ষণ পর আবারও শরিফুলের জোড়া আঘাত। হাঁকাতে গিয়ে ১৯ বলে ১৬ রান করে শরিফুলের তৃতীয় শিকার হন রোমারিও শেপার্ড। দুই বল পরে গুদাকেশ মতিকে (৭) মিরাজের ক্যাচ বানান শরিফুল। ১১১ রানে নবম উইকেট হারিয়ে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সে পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু শেষটা বেশ অস্বস্তির হয়ে থাকল। শেষ দিকে ক্যাচ পড়েছে টপাটপ। বোলাররাও কেনজানি আক্রমণাত্মক বোলিং করতে পারলেন না! সেই সুযোগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ দুই ব্যাটার শেষ উইকেট জুটিতে ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটিটা গড়ে ফেললেন।

শেষ উইকেটে সর্বোচ্চ ৩৯ রান তুলে অপরাজিত ছিলেন অ্যান্ডারসন ফিলিপ ও জেডেন সিলস। ২২ বলে ২১ রান করেন ফিলিপ, আর সিলস ২৩ বলে করেন ১৬ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে পাঁচ বোলারই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। শরিফুল ৮ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৯ ওভারে ৩৬ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ৩৪ রানে ১ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাসকিন ও নাসুম উইকেট না পেলেও ৮ ওভার করে বোলিং করে রান দিয়েছেন যথাক্রমে ১৬ ও ২৫।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি