1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

দেশে সংক্রমণের ৭১তম সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন শনাক্ত ১২ হাজার

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

ঢাকা: ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়। ৭১ সপ্তাহ পরে এসে দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনা সংক্রমণ। গত ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৪০ হাজার ৬৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ১১ হাজার ৮৭১ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এই সময়ে গড়ে প্রতিদিন মারা গেছেন ২১১ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাম অঞ্চলেও করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। সরকার ঘোষিত এই বিধিনিষেধ কার্যকর করতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যেতে পারে। ঈদুল আজহার সময় কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিধিনিষেধ দিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে।

শনিবার (১৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নাসিমা সুলতানা সাক্ষরিত কোভিড সংক্রান্ত নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়ে মারা গেছে ২০৪ জন। এই সময়ে দেশে ২৯ হাজার ২১৪টি নমুনা পরীক্ষা করে আট হাজার ৪৮৯ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া যায়।

ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ৭২ লাখ ১৫ হাজার ৫৮১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০ লাখ ৯২ হাজার ৪১১ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে সংক্রমিত হয়ে ১৭ হাজার ৬৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৭১তম সপ্তাহে ৮৩ হাজার ৯৬ জনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। আগের ৭০তম সপ্তাহে শনাক্ত হয় ৭৩ হাজার ৫৯ জনের মাঝে। ৭০তম সপ্তাহের তুলনায় ৭১তম সপ্তাহে দেশে সংক্রমণ শনাক্তের হার বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এই সপ্তাহে দৈনিক সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ২৯ দশমিক ২১৫ শতাংশ। দৈনিক হিসেবে এই সপ্তাহে প্রতিদিনই ১১ হাজার ৮৭১ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় এক হাজার ৪৩৪ জন বেশি।

বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: অতীত পরিসংখ্যান বলছে, দেশে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণ শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সামনের সপ্তাহগুলোতে সংক্রমণ শনাক্তের পরিমাণ লাগামহীনভাবে বাড়তে পারে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, “বিভিন্ন কারণেই সংক্রমণ বাড়তে পারে। সংক্রমণ বেশি তখনই হবে, যখন বেশি বেশি মানুষ এই ভাইরাসের সামনে ‘এক্সপোজড’ হবেন। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সংক্রমণের হার বাড়ছিল। ধীরে ধীরে তা অন্য এলাকাতেও ছড়িয়েছে। আর তাই সংক্রমণ শনাক্তের হার বাড়ছে।”

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বাড়বেই। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে। সংক্রমণের উৎস ও উৎপত্তিস্থল বিশ্লেষণ করে তারপর সে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

সরকারের আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডা. মোশতাক বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী কিছু বিধিনিষেধ দিয়েছে, যা সবাই অনুসরণ করেছেন— এটি বলা যায় না। এর মধ্যে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে সেসব স্থানে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি সবাইকে মাস্ক পরায় উৎসাহিত করতে হবে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়েও সবাইকে বোঝাতে হবে।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ভাইরোলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিগত সাতদিনের মতো সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ও মৃত্যু আগে দেশে পাওয়া যায়নি। তাই এটি ভয়াবহ একটা সপ্তাহ হিসেবেই বিবেচনা করছি। গ্রামেও সংক্রমণ শনাক্তের হার বাড়ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুব দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষকে সচেতন করে নমুনা পরীক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যদি সবাইকে দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আনা যায় তাহলে মৃত্যুও অনেকটা কমবে। মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে সবাইক

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত সুলতানা লিমাও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণেই জোর দিতে বলছেন সবাইকে। তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রধানতম করণীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। মাস্ক পরার অভ্যাসটা চালু করা। কেউ মাস্ক পরে যদি বাইরে যান, তিনি হাঁচি-কাশি দিলেও কিন্তু মাস্ক তার কাছ থেকে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করলে তার কাছ থেকে ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা একেবারেই কমে যাবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি