1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. noushaduddin16@gmail.com : nowshad Uddin : nowshad Uddin
  3. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
  4. nooruddinrasel@yahoo.com : nooruddin rasel : nooruddin rasel
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২২ অপরাহ্ন

পি কে হালদারের দুর্নীতি: ৩৯ কোম্পানির ৩ হাজার কোটি টাকা ফ্রিজ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২১

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আর্থিক খাতে দুর্নীতি-অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ লোপাটের অভিযোগে পি কে হালদার এবং তার সহযোগী ও ৩৯ প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব টাকা পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজনেস ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহযোগিতায় দুদক এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফ্রিজ করেছে।

সময়ের আলোচিত নাম পি কে হালদার তথা প্রশান্ত কুমার হালদার। রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ। অর্থ লোপাট করে দেশের বাইরে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন— এমনই অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সেসব অভিযোগে একাধিক মামলাও করেছে তার বিরুদ্ধে। বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা পর্যন্ত নিয়েছে দুদক। সংস্থাটির আশাবাদ, তাকে খুব শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

এর আগে, দেশ থেকে পলাতক প্রশান্ত কুমার হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়। বাংলাদেশ পু‌লি‌শের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) অর্থাৎ ইন্টারপোলের ঢাকা শাখার অনুরোধে গত শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করে ইন্টারপোল।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পি কে হালদার প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নামে-বেনামে। এ কাজে তার সহযোগী হিসেবে ছিল বেশকিছু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান। এই টাকার মধ্যে ৩৯ প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সন্ধানের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে দুদক। আর তারপরই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ওই ৩৯ প্রতিষ্ঠানের সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুদক। এ ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হতে পারে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিআর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ন্যাচার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, নিউটেক এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, হল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, নিউট্রিক্যাল লিমিটেড, আরবি এন্টারপ্রাইজ, আনান কেমিকেল, রিপটাইলস ফিল্ম লিমিটেড, পি অ্যান্ড এল ইন্টারন্যাশনাল, আর্থস্কোপ লিমিটেড, এমটিবি মেরিন লিমিটেড, কোলাসিন লিমিটেড, এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলথ কেয়ার লিমিটেড, ওকায়ামা লি., জি অ্যান্ড বি এন্টারপ্রাইজ, ড্রিনুন অ্যাপারেলস লিমিটেড, মুন এন্টারপ্রাইজ, কনিকা এন্টারপ্রাইজ, সিগমা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, আইম্যাক্সকো, সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেড ও সন্দ্বীপ করপোরেশন।

এই তালিকায় আরও রয়েছে— উইনটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, পদ্মা ওয়েভিং লিমিটেড, এমওএইচ ফ্যাশন লিমিটেড, এস এন্টারপ্রাইজ, শাদাত ট্রেডার্স, সাবির ট্রেডারস লিমিটেড, গ্রিনলাইন ডেভলপমেন্ট লিমিটেড, মিসেস বর্নো, রহমান কেমিক্যালস লিমিটেড, ক্রসরোড করপোরেশন লিমিটেড, তামিম ও তালহা ব্রাদার্স লিমিটেড, ডিজাইন ও সোর্স লিমিটেড, জেডএ অ্যাপারেলস লিমিটেড, সুপিরিয়ার টেক্সটাইল লিমিটেড, নিথার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড সিমটেক্স টেক্সটাইল লিমিটেড ও এমজে ট্রেডিং।

পি কে হালদারের বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সারাবাংলাকে বলেন, আমরা পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি। এরই মধ্যে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইন্টারপোল তার নামে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করব।

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, এছাড়া পি কে হালদারের সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। তার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সম্পত্তিও জব্দ করা হচ্ছে। ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতির টাকা কেউ ভোগ করতে পারবে না।

এদিকে, দুর্নীতিতে পি কে হালদারের সহযোগী বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালকে গত বুধবার (১৩ জানুয়ারি) গ্রেফতার করেছে দুদক। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি পি কে হালদারের আরেক ঘনিষ্ঠজন শঙ্খ বেপারীকে গ্রেফতার করা হয়। এরই মধ্যে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে শঙ্খ বেপারিকে। অবন্তিকাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

জানা যায়, পি কে হালদারের জন্ম পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান গ্রামে। বাবা প্রয়াত প্রণনেন্দু হালদার ও মা লীলাবতী হালদার। তার মা ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পি কে হালদার ও প্রিতিশ কুমার হালদার— দুই ভাই-ই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে ব্যবসায় প্রশাসন নিয়ে পড়ালেখা করেছেন পি কে হালদার।

২০০৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসিতে উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক ছিলেন পি কে হালদার। ১০ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়েই ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হয়ে যান। এরপর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন।

দুদক বলছে, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে— পিপলস লিজিং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) দায়িত্ব পালন করে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন তিনি। অন্যান্য আরও প্রতিষ্ঠানের অর্থ মিলিয়ে তিনি মোট ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে দুদক। আর বিদেশে টাকা পাচার ও অর্থ আত্মসাৎসহ বাকি সব অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমনে নিয়োজিত সংস্থাটি।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি