1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. noushaduddin16@gmail.com : nowshad Uddin : nowshad Uddin
  3. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
  4. nooruddinrasel@yahoo.com : nooruddin rasel : nooruddin rasel
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

ভয়ঙ্কর নারীপাচারে বিশাল নেটওয়ার্ক

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

বাংলাদেশি এক তরুণীকে ভারতে যৌন নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে বেরিয়ে আসছে নারীপাচার চক্রের সন্ধান। গতকাল বুধবার ব্যাঙ্গালুরু পুলিশের হাত থেকে পালানোর সময় সবুজ নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ নিয়ে চক্রটির ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে ভারতের পুলিশ।
এদিকে পাচার হওয়ার ৭৭ দিন পর কৌশলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন এক তরুণী। তিনি গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার হাতিরঝিল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেছেন। পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী দাবকপাড়ার কালিয়ানী এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার নারীপাচারকারী চক্রটির চারজনকে গ্রেফতার করে র্যা ব। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে সাতজনকে গ্রেফতার করা হলো।

ভারতফেরত তরুণীর মামলা
ভারত থেকে পালিয়ে আসা তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘টিকটক স্টার’ বানানোর কথা বলে মগবাজার এলাকা থেকে তাকে ভারতে পাচার করা হয়। সেখানে ধারাবাহিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ৭৭ দিন পর কৌশলে দেশে পালিয়ে আসেন। ভারতে থাকার সময় তিনি আরও অনেক বাংলাদেশি তরুণীকে দেখেছেন। যারা বিভিন্ন সময়ে এ চক্রের মাধ্যমে পাচার হয়েছে। 
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী তরুণী হাতিরঝিল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজন বর্তমানে দেশে অবস্থান করছে। এরপরই দিবাগত রাতে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী দাবকপাড়ার কালিয়ানী এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন ও আব্দুল কাদের। এই তিনজন প্রায় এক হাজার নারীকে ভারত পাচারে সরাসরি সহায়তা করেছে। তাদের কাছ থেকে পাচারের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল, একটি ডায়েরি, চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ভারতীয় সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
যেভাবে পাচার হন তিনি
২০১৯ সালে হাতিরঝিলের মধুবাগ ব্রিজে টিকটক হৃদয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় ভুক্তভোগী ওই তরুণীর। কখনও টিকটক স্টার বানাতে চেয়ে, কখনও ভালো বেতনের চাকরির কথা বলে প্রলুব্ধ করেন হৃদয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জের অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কে ৭০ থেকে ৮০ জনকে নিয়ে টিকটক হ্যাংআউট করেন হৃদয়। একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের আফরিন গার্ডেন রিসোর্টে ৭০০ থেকে ৮০০ জন তরুণ-তরুণীকে নিয়ে পুল পার্টির আয়োজন করা হয়। ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ায় লালন শাহ মাজারে আয়োজিত টিকটিক হ্যাংআউটে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই তরুণীকে চক্রের অন্যদের সহায়তায় সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করে দেন হৃদয়। 
জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী পুলিশকে জানান, ভারতে পাচারের পর তাকে ব্যাঙ্গালুরুর আনন্দপুর এলাকায় কয়েকটি বাসায় রাখা হয়। এ সময় পাচারকৃত আরও কয়েকজন বাংলাদেশি তরুণীকে সেখানে দেখতে পান। তাদের সুপার মার্কেট, সুপার শপ বা বিউটি পার্লারে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয়েছে।
বীভৎস নির্যাতন ৭৭ দিন
ভুক্তভোগী তরুণীর বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ব্যাঙ্গালুরু পৌঁছানোর কয়েক দিন পরই ওই ভুক্তভোগী তরুণীকে চেন্নাইয়ের এ ১০ দিনের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে শারীরিক ও বিকৃত যৌন নির্যাতন করা হয় তাকে। কৌশলে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে কিংবা জোরপূর্বক বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের তা পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে জিম্মি করে রাখা হয় এই তরুণীকে।
এক হাজার নারীপাচার, ডায়েরিতে তথ্য
ডিসি শহিদুল্লাহ জানান, মামলায় যে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নারীপাচারের অন্যতম হোতা টিকটক হৃদয় ও গ্রেফতার তিনজন একই চক্রের সদস্য। বাকি সাতজন ভারতীয়। গ্রেফতার মেহেদী হাসান বাবু পাচারের শিকার মামলার বাদী তরুণীসহ এক হাজারের বেশি নারীপাচারে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। 
সাত থেকে আট বছর ধরে পাচারে জড়িত মেহেদি হাসান বাবুর মোবাইল ফোন ও ডায়েরিতে টিকটক হৃদয়, সাগর, সবুজ, ডালিম ও রুবেলের ভারতীয় মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। তার ডায়েরিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওর ভিকটিমের আধার কার্ড নম্বর ও ভারতে পাচারকৃত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিকটিমের নাম ও মানবপাচারে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য পাওয়া গেছে।
টিকটক নজরদারিতে
ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, টিকটক কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পাচারকেন্দ্রিক অপচেষ্টা শুরু হয়। উঠতি বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের মডেল বা স্টার বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে পাচার করছে একটি চক্র। এজন্য আমরা টিকটককে নেগেটিভলি দেখছি। এ অপচেষ্টা বন্ধে আমরা জড়িতদের আইনের আওতায় আনব।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পাচারের শিকার ও পাচারকারীরা অবৈধভাবে ভারতে যান। তাদের কাছে ভিসা-পাসপোর্ট বা কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র থাকে না। এরপর চক্রের ভারতীয় সদস্যদের সহায়তায় তাদের জন্য ওই দেশের আধার কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়। যে কার্ড ব্যবহার করে তারা ভারতে মুভমেন্ট করে থাকেন। পাচারকারী চক্রে কতজন জড়িত জানতে চাইলে ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, তদন্তের এ পর্যায়ে আমরা অনেকের নাম পেয়েছি। আরেকটু তদন্তের পর সংখ্যাটি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারব।
রিমান্ডে বস রাফিসহ চারজন
গতকাল বুধবার আশরাফুল ইসলাম ওরফে বস রাফিসহ এই নারী পাচার চক্রের চার সদস্যের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরার আদালত। অপর তিনজন হলেন- রাফির অন্যতম নারী সহযোগী সাহিদা বেগম ম্যাডাম সাহিদা, মো. ইসমাইল সরদার ও মো. আব্দুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখ।
সোমবার রাতে রাফিসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র্যা ব। এরপর হাতিরঝিল থানায় তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে একটি মামলা করা হয়। র্যা ব জানায়, মানবপাচারকারী এ চক্রের সঙ্গে প্রায় ৫০ জন জড়িত। গ্রেফতার রাফির মাধ্যমে গত ৮ বছরে অন্তত ৫০০ নারীকে ভারতে পাচার করা হয়।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি