1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
  3. sayefrahman7@gmail.com : Sayef Rahman : Sayef Rahman
রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

মুনাফার লোভ দেখিয়ে ৮০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা স্কুলশিক্ষক!

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ): ৮০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাজি আসমত এতিমখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক এ কে এম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছ থেকে এই অর্থ তিনি সংগ্রহ করেছিলেন। ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন।


কেবল মানুষের কাছ থেকে নয়, শহরের চন্ডিবের হাজি আসমত এতিমখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।

এ কে এম কামরুজ্জামান হাজি আসমত এতিমখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০১৭ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দেন। স্থানীয়রা জানান, চাকরির পাশাপাশি তিনি গত বছর চন্ডিবে একটি লাইব্রেরি স্থাপন করেন। পরে ব্যবসার কথা বলে সহকর্মীসহ অনেকের কাছ থেকেই অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি। বড় অঙ্কের মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে এই টাকাগুলো নেন।


ভুক্তভোগীরা বলছেন, ইদুল ফিতরের সময় সবার কাছে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা বলেন কামরুজ্জামান। কিন্তু ইদের পর তিন সপ্তাহ চলেও গেলেও কর্মস্থলে যোগ দেননি তিনি। ভৈরবেও ফেরেননি তিনি। পাওনাদাররা তার কোনো সন্ধান না পেয়ে এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তারা বুঝতে পারেন, প্রতারিত হয়েছেন। তাদের অনেকেই কামরুজ্জামানের নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ভুক্তভোগী মো. মুসা মিয়া বলেন, গত ২০ জানুয়ারি শিক্ষক কামরুজ্জামান তার স্ত্রীর নামে বাড়ি বিক্রির কথা বলে বায়না দলিল মূলে আমার কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ টাকা নিয়ে জমি লিখে না দিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনায় ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।


ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মতিউর রহমান নামে এক জনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নিয়েছেন কামরুজ্জামান। এছাড়া শিক্ষক সাথী আক্তারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, শিক্ষক আল-আমিনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা, স্কুলের এক কর্মচারীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা, তিতাস গ্যাসের কর্মী জায়েদুল ইসলাম রবিনের কাছ থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, শিক্ষক সাইফুল হক হৃদয়ের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, রইছ উদ্দিনের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকাসহ আরও সাত-আট জনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে যারা শিক্ষক কামরুজ্জামানকে টাকা দিয়েছেন, তারা কেউ একজন অন্য কারও টাকা দেওয়ার কথা জানতেন না বলে জানিয়েছেন। এভাবেই গোপনে ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন ওই শিক্ষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, ওই শিক্ষক খুব ভালো ব্যবহার করতেন। টাকা নেওয়ার পর প্রথম দিকে ভালো লাভও দিয়েছিলেন কাউকে কাউকে। ওই লাভের লোভেই পরে সবাই টাকা দিয়েছেন কামরুজ্জামানকে, তবে গোপনে। তিনি লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তখন বুঝতে পারেন প্রতারিত হওয়ার কথা।


তবে শিক্ষক কামরুজ্জামানের পরিবারের দাবি, ইদে বরিশালের বাকেরগঞ্জের কাঠালিয়ায় নিজ বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে চলে গেছেন তিনি। সেখান থেকে এখনো ফেরেননি, কোনো যোগাযোগও নেই অনেকদিন হলো। তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করার বিষয়ে পরিবার কিছুই জানা নেই তাদের। কামরুজ্জামানের ব্যবহার করা দুইটি মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, অনেকেই কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টাকা মেরে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছেন। কয়েকজন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আমরা ভুক্তভোগীদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি