1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

শত শত কোটি টাকা গায়েব, সদুত্তর দিচ্ছেন না রাসেল-শামীমা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ঢাকা: সাইক্লোন অফার, টর্নেডো অফার— এসব ছিল ইভ্যালির মার্কেটিং পলিসি। নানা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল। গ্রাহকদের টাকায় আয়েশি জীবন কাটাতেন তারা। প্রতিমাসে বেতন নিতেন ৫ লাখ টাকা করে, চড়তেন নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়িতে।

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া পর র‌্যাবকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, কোম্পানির দায় দেনা এক হাজার কোটি টাকার মতো। তবে কীভাবে এই দায়দেনা তৈরি হলো, গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা কোথায় গেল সে ব্যাপারে সঠিক কোনো জবাব দিতে পারছেন না রাসেল-শামীমা।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের এ সব তথ্য জানান।

জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল-শামীমা জানান, প্রতিষ্ঠানটির আরও দায় দেনা রয়েছে। মোট দায় দেনার পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি। কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে লোকসানি কোম্পানি। তারা ব্যবসায়িক কোনো লাভ করতে পারেনি। গ্রাহকের অর্থ দিয়েই যাবতীয় ব্যয় ও খরচ নির্বাহ করা হতো। ফলে দেনা দিনের পর দিন বেড়েছে।

কোম্পানিতে ব্যবসায়িক লাভ না হলেও চেয়ারম্যান ও সিইও একেকজন বেতন নিতেন পাঁচ লাখ টাকা করে। কোম্পানির মোট কর্মী ছিল ২ হাজার জন। এর মধ্যে অস্থায়ী কর্মী ছিল ১ হাজার ৭০০ জন। তাদের প্রতিমাসে বেতন দিতে হতো প্রায় ৫ কোটি টাকা। গ্রাহকদের জমা পড়া অর্থ থেকে এ টাকা দেওয়া হতো।

আল মঈন বলেন, কারসাজির মাধ্যমে লাখ লাখ গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পণ্য ডেলিভারি না দেওয়ার বিষয়টি দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি করে। ইভ্যালি প্লাটফর্মে প্রতারিত হন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন লোভনীয় গগনচুম্বী অফার দেখিয়ে সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে। এ ছাড়া বিভিন্ন আলোচনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় এক ভুক্তভোগী প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল (৩৭) এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের (৩৫) বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও সিইওকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়ার বিভিন্ন বিষয়াদি ও কৌশল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে বলে র‌্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাব জানায়, ইভ্যালির কারসাজির মূল হোতা মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী অন্যতম সহযোগী। রাসেল ২০০৭ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন বলে জানান।

তিনি ২০০৯ সাল হতে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি ব্যাংকিং সেক্টরে ছয় বছর চাকরি করেন। ২০১৭ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি প্রায় এক বছর শিশুদের ব্যবহার্য একটি আইটেম নিয়ে ব্যবসা করেন এরপর তিনি ওই ব্যবসা বিক্রি করে দেন।

২০১৮ সালে আগের ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে ইভ্যালি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ইভ্যালির কার্যক্রম শুরু হয়। কোম্পানিতে তিনি সিইও এবং তার স্ত্রী চেয়ারম্যান পদে থাকেন।

র‌্যাব আরও জানায়, ভাড়াকৃত স্পেসে ধানমন্ডিতে প্রধান কার্যালয় এবং কাস্টমার কেয়ার স্থাপিত হয়। একইভাবে ভাড়াকৃত স্পেসে আমিন বাজার ও সাভারে দুটি ওয়ার হাউজ চালু করা হয়। কোম্পানিতে একপর্যায়ে প্রায় ২০০০ ব্যবস্থাপনা স্টাফ ও ১৭০০ অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ ছিল। যা ব্যবসায়িক অবনতিতে বর্তমানে যথাক্রমে স্টাফ ১৩০০ জনে এবং অস্থায়ী পদে প্রায় ৫০০ জন কর্মচারীতে এসে দাঁড়িয়েছে। কর্মচারীদের একপর্যায়ে মোট মাসিক বেতন বাবদ দেওয়া হতো প্রায় ৫ কোটি টাকা; যা বর্তমানে দেড় কোটিতে দাঁড়িয়েছে বলে গ্রেফতারকৃতরা জানান।

গত জুন থেকে অনেকের বেতন বকেয়া রয়েছে। তিনি ও তার স্ত্রী পদাধিকারবলে নিজেরা মাসিক ৫ লাখ টাকা করে বেতন নিতেন। তারা কোম্পানির অর্থে ব্যক্তিগত দুটি দামি গাড়ি (রেঞ্জ রোভার ও অডি) ব্যবহার করেন। এ ছাড়া কোম্পানির প্রায় ২৫-৩০টি যানবাহন রয়েছে। সাভারে রাসেলের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জায়গা-জমিসহ অন্যান্য সম্পদ রয়েছে বলে তিনি জানান।

রাসেল ও তার স্ত্রীর বরাত দিয়ে র‌্যাব আরও জানায়, ইভ্যালির বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি গেটওয়েতে ৩০-৩৫ কোটি গ্রাহকের টাকা আটক হয়ে আছে বলে গ্রেফতারকৃতরা উল্লেখ করেছেন।

কোম্পানির দায় ও দেনা সম্পর্কে তারা বলেন, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেনা দাঁড়ায় ৪০৩ কোটি টাকা; চলতি সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকা, বিভিন্ন পণ্য বাবদ গ্রাহকদের নিকট থেকে অগ্রিম নেওয়া ২১৪ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন গ্রাহক ও কোম্পানির কাছে বকেয়া প্রায় ১৯০ কোটি টাকা।

জিজ্ঞাসাবাদে ই-ভ্যালির দুই কর্ণধার র‌্যাবকে জানান, বিভিন্ন সংস্থার সূত্রে প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ দায়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারকৃতরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ই-ভ্যালির আরও কয়েকটি সাব কোম্পানি রয়েছে। যেমন ই-ফুড, ই-বাজার প্রভৃতি। আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান করার ইচ্ছা ছিল তাদের।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি