1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:০০ অপরাহ্ন

হেরে বাঁচল ইংল্যান্ড, ভারত গড়ল রেকর্ড!

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

এক দিকে স্পিনের আগুন। অন্য দিকে রোদের কড়া তাপ। দুই মিলে উইকেটে থাকাটাই ছিল ভীষণ কষ্টের। রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল। এমন দমবন্ধ করা অবস্থায় মাঠে নাজেহাল হওয়ার চেয়ে ড্রেসিংরুমের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে আশ্রয় নেওয়াটাই তো ভালো! সেই ‘ভালো’র সুযোগই পেয়েছে ইংলিশরা। চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় টেস্টে হেরে ইংলিশরা যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছে! হারের মধ্য দিয়ে অবসান হয়েছে তাদের কষ্টের লড়াইয়ের!

ইংলিশদের নিস্তার দিয়ে ভারত দ্বিতীয় টেস্টটা জিতে নিয়েছে ৩১৭ রানে। যেটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রানের হিসেবে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়। ইংলিশদের সবচেয়ে বড় হার। চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ৪৮২ রানের অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল ভারত। এই চ্যালেঞ্জ জয় করা দূরের কথা, সফরকারী ইংল্যান্ড ন্যুনতম লড়াইও করতে পারেনি। বরং ভারতের দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন, অক্ষর প্যাটেল ও কুলদীপ যাদবদের স্পিনে পুড়ে অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ১৬৪ রানে। ফল, ভারত পেয়েছে রেকর্ড জয়। যে জয়ে ৪ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল ভারত।

এই চেন্নাইয়েই প্রথম টেস্টে ২২৭ রানে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডও গড়েছিল একটা রেকর্ড। ভারতের মাটিতে ২২৭ রানের জয়টাই ছিল রানের হিসেবে ইংলিশদের সবচেয়ে বড় জয়। ভারত তার জবাবটা দিল পাল্টা রেকর্ড গড়া জয়ে।

দ্বিতীয় টেস্টে ইংলিশরা ভারতীয়দের স্পিন আগুনে পুড়েছে প্রথম ইনিংসেও। ফলে স্পিনের বিরুদ্ধে কষ্টের লড়াইযের কষ্টটা টের পেয়েছে দ্বিতীয় দিনেই। প্রথম ইনিংসে ভারতের ৩২৯ রানের জবাব দিতে নেমে ইংলিশদের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৪ রানে। অশ্বিন-প্যাটেলদের ঘুর্ণির মুখে ইংলিশরা টিকতে পেরেছিল মাত্র ৫৯.৫ ওভার। দমানে দ্বিতীয় দিনে শুরু করে দ্বিতীয় দিনেই শেষ হয় ইংলিশদের প্রথম ইনিংসের কষ্টের লড়াই। এরপর আবার তৃতীয় দিন বিকালেই আবার নতুন করে শুরু করতে হয় কষ্টের লড়াই।

তার আগে প্রথম ইনিংসে ১৯৫ রানের লিড পাওয়া ভারত নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে করে ২৮৬ রান। ফলে ভারত মোট লিড দাঁড়ায় ৪৮১ রানের। মানে চতুর্থ ইনিংসে ইংলিশদের জয়ের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারিত হয় ২৮২ রানের! ভারতীয়দের চাহিদামাফিক তৈরি স্পিন ফাঁদে এই অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করে জেতাটা অসম্ভবই, এটা জানাই ছিল ইংলিশদের। তবে সেটা যে কত দূরের পথ, সেটি টের পেয়েছে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে।

অসম্ভব এই লক্ষ্য ছুঁতে ইংলিশদের তৃতীয় দিন বিকালেই নেমে পড়তে হয় কষ্টের লড়াইয়ে। যথারীতি নেমেই বিপদে পড়ে যায়। শেষ বিকালে ১৯ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ৫৩ রানে হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট।

এখান থেকেই আজ চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ইংলিশরা। তাদের পরিকল্পনাটা ঠিক কি ছিল কে জানে! তবে ইংলিশদের পরিকল্পনা যাই থাকুক, তা সফল হয়নি। সফল হয়েছে ভারতীয়দের পরিকল্পনাই। চতুর্থ দিনের অর্ধেক পেরোনোর আগেই ইংলিশদের বাকি ৭ উইকেট তুলে নিয়ে ভারত নিশ্চিত করেছে রেকর্ড জয়।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মঈন আলি যখন আউট হলেন, চতুর্থ দিনের খেলা তখনো অর্ধেকের বেশি বাকি। পঞ্চম দিন তো সামনে পড়েই ছিল। এত সময় থাকতে এভাবে আউট হয়ে যাওয়ায় ইংলিশদের মনে একটা আফসোস থাকতে পারত! ধৈর্য ধরে উইকেটে পড়ে থাকতে না পারার আফসোস! কিন্তু ইংলিশদের মুখায়ব দেখে তেমন আফসোসের লেশ মাত্র পাওয়া গেল না! বরং কষ্টের দৌড় শেষ হয়ে যাওয়ায় হাফ ছেড়েই যেন বেঁচেছে তারা! দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪.২ ওভার টিকতে পেরেছে ইংলিশরা।

এর মধ্যে ১৫.২ ওভার একাই কাটিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট। তিনি খেলেছেন ৯২ বলে ৩৩ রানের ইনিংস। রানের হিসেবে ইংলিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেছেন মঈন আলি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে তিনি মাত্র ১৮ বলে করেছেন ৪৩ রান! স্ট্রাইক রেট ২৩৮.৮৯! টি-টোয়েন্টিকেও হার মানানো ইনিংস! ৫টি ছক্কা ও ৩টি চারের সহায়তায় সাজানো তার ইনিংসটি ইংলিশদের কোনো আশা দেখাতে পারেনি। হারের ব্যবধানটাই যা একটু কমিয়েছে।

তবে মঈন আলি ব্যক্তিগতভাবে একটু লাভবান হলে হতেও পারেন। দুই দিন পরই যে শুরু হচ্ছে আইপিএলের নিলাম। তার আগে ভারতের মাটিতেই এমন বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে আইপিএলের ফ্যাঞ্চাইজিংগুলোকে যেন একটা শুভেচ্ছা বার্তাই দিয়ে রাখলেন মঈন।

দ্বিতীয় এই টেস্টে ভারতীয় স্পিনারদের সামনে ইংলিশদের কতটা নাকাল হতে হয়েছে, সেটি ছোট্ট একটা তথ্যেই স্পষ্ট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ইংলিশদের ২০ উইকেটের ১৭টিই তুলে নিয়েছেন স্পিনাররা। ম্যাচসেরার পুরষ্কারও পেয়েছেন একজন স্পিনারই, রবিচন্দ্রন অশ্বিন। যিনি দুই ইনিংসে নিয়েছেন ৮ উইকেট, প্রথম ইনিংসে ৫টি, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩টি।

ম্যাচ সেরার পুরষ্কারের দাবিদারি ছিলেন এই টেস্টেই অভিষেক হওয়া অক্ষর প্যাটেলও। যিনি অভিষেক টেস্টেই নিয়েছেন ৭ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ২টি, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫টি। এই দুজনে মিলেই নিয়েছেন ১৫ উইকেট। এছাড়া অন্য স্পিনার কুলদীপ যাদব নিয়েছেন ২ উইকেট। বাকি ৩টি উইকেট নিয়েছেন দুই পেসার ইশান্ত শর্মা (২টি) ও মোহাম্মদ সিরাজ (১টি)।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি