1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. noushaduddin16@gmail.com : nowshad Uddin : nowshad Uddin
  3. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
  4. nooruddinrasel@yahoo.com : nooruddin rasel : nooruddin rasel
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৬ অপরাহ্ন

হোয়াইট হাউজের যাত্রা শুরু ৭৮-এর বাইডেনের

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২১

২০২০ সালের ৩ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশটির ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন জো বাইডেন। এর প্রায় আড়াই মাস পর ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন তিনি। আজ বুধবার (২০ জানুয়ারি) থেকে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ব্যস্ত প্রেসিডেন্টের কর্মজীবন শুরু হলো জো বাইডেনের। ৭৮ বছর বয়েসি জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট।

বুধবার ওয়াশিংটন ডিসির কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের ওয়েস্ট ফ্রন্টে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক অনুষ্ঠানে শপথ নেন জো বাইডেন। একইসঙ্গে শপথবাক্য পাঠ করেন কমলা হ্যারিস, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কোনো নারী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।

সাবেক কয়েকজন প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেসের সদস্য ও দেশসেরা শিল্পীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব ও দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অভিষেক হলো জো বাইডেনের। এর মধ্যে দিয়ে ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের আমলেরও অবসান হলো। এর আগে বুধবার সকালেই অবশ্য হোয়াইট হাউজ ত্যাগ করেন সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্প। তবে বাইডেন-কমলার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। দিনভর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জো বাইডেন নামে পরিচিত। এর আগে ৪৪তম প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ছিলেন আলোচিতদের একজন।

জো বাইডেনের বাবা জোসেপ বাইডেন সিনিয়র ও মা ক্যাথরিন ইউজেনিয়া। বাবা ছিলেন গাড়ি বিক্রেতা। তবে জো বাইডেনের বয়স যখন মাত্র ১০ তখন বাবার চাকরি চলে যায়। এতে অর্থকষ্টে পড়ে বাইডেন পরিবার। এরমধ্যে স্ক্র্যান্টনে সেন্ট পালস এলিমেন্টরি স্কুলে পড়ালেখা শুরু হয় বাইডেনের। কিছুদিন পর ভাগ্যান্বেষণে বাবা সিনিয়র বাইডেন পাড়ি জমান ডেলওয়ারে শহরে। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ারে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন বাইডেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এদিকে ডেলওয়ারে  ভাগ্য ফেরে বাবা সিনিয়র বাইডেনের। একজন গাড়ি বিক্রেতা হিসেবে সেখানে সফল হন তিনি। এতে আর্থিক অনটনেরও অবসান হয় বাইডেন পরিবারের।

হোয়াইট হাউজের যাত্রা শুরু ৭৮-এর বাইডেনের
স্ত্রী নিলিয়া, ছেলে হান্টার ও ব্যু জো বাইডেনের ৩০তম জন্মদিনের কেক কাটছেন।

পড়াশুনায় জো বাইডেন বরাবরই মেধার ছাপ রেখেছেন। ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ারে তার মেজর ছিল ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান। আর মাইনর ছিল ইংরেজি। এরপর সিরাকাউস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে আইন পাস করেন তিনি। সিরাকাউস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষেই সহপাঠী নিলিয়া হান্টারের প্রেমে পড়েন বাইডেন। ১৯৬৬ সালে বিয়ের পিড়িতে বসেন দুজন। তবে সুখের এ সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৭২ সালে বাইডেনের জীবনে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সে বছর বড়দিনের আগের রাত গাড়ি দুর্ঘটনায় এক মেয়ে ও স্ত্রী নিলিয়া হান্টারের মৃত্যু হয়। কোনক্রমে বেঁচে যান বড় দুই ছেলে। পরে ২০১৫ সালে ক্যানসারে ভোগে মারা যান বাইডেনের বড় ছেলে অ্যাটর্নি বিউ বাইডেন। ১৯৭২ সালে স্ত্রী নিলিয়ার মৃত্যুর তিন বছর পরে তার সঙ্গে পরিচয় হয় জিল জ্যাকবসের। পেশায় শিক্ষিকা জিল জ্যাকবসের সঙ্গেই পরে গাঁটছড়া বাধেন তৎকালীন সিনেটর জো বাইডেন।

রাজনৈতিক জীবন
বাইডেন তরুণ বয়েসেই মার্কিন আইনসভার সদস্য হয়েছিলেন। সিনেটর হিসেবে মার্কিনিদের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে নিউ ক্যাসেল কাউন্টি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন বাইডেন। এর দুই বছর পর ১৯৭২ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে ডেলওয়ারে থেকে আমেরিকার ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বকনিষ্ঠ সিনেটর নির্বাচিত হন জো বাইডেন। ২০০৯ সাল পর্যন্ত চার দশক সিনেটর হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন তিনি। তবে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার আগে ১৯৭১ সালে জো বাইডেন আইনপেশায় যুক্ত হন। সে বছর তিনি তার নিজস্ব এক ল’ ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন।

সিনেটর হিসেবে বাইডেনের সফলতার গ্রাফ সবসময়ই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বিদেশ নীতিতে অত্যন্ত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে তিনি। এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ সিনেটর হিসেবে সহকর্মীদের সম্মান আদায় করেছেন তিনি। সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সভাপতি হিসেবে বহু বছর দায়িত্ব পালন করেন জো বাইডেন। বাইডেন ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের বিরোধিতা, পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো জোট সম্প্রসারণ এবং ১৯৯০ সালে যুগোস্লাভ যুদ্ধে হস্তক্ষেপ সমর্থন করেন। ২০০২ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের ইরাক যুদ্ধতেও সমর্থন দেন তিনি। আবার ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সৈন্য বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন জো বাইডেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছয় বার সিনেটে পুনর্নির্বাচিত হন।

১৯৮৮ ও ২০০৮ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইলেও তিনি পাননি। তবে ২০০৮ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বারাক ওবামা তাকে রানিংমেট হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে বারাক ওবামার সঙ্গে টানা দুই বার ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন জো বাইডেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়
২০১৯ সালের এপ্রিলে বাইডেন এক ঘোষণায় জানান, তিনি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। এর আগে দুই বার এ পদে প্রার্থিতা চেয়ে ব্যর্থ বাইডেনের বয়স তখন ৭৭। ইতিমধ্যে পাড়ি দিয়েছেন রাজনৈতিক জীবনের সবকটি সিঁড়ি। তবে এ পদের মনোনয়ন চেয়ে দুই বার ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার দলের মনোনয়ন পেতে বেগ পেতে হয়নি তাকে। প্রতিপক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারাতে অভিজ্ঞ বাইডেনকেই বেছে নেন ডেমোক্রেট প্রতিনিধিরা। ২০২০ সালের জুনেই তিনি দলীয় প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন। ১১ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমলা হ্যারিসকে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত করেন।  মূল নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অস্থির এক সময়ে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন জো বাইডেন।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন জরিপ সংস্থার করা প্রায় সবকটি জরিপে এগিয়ে ছিলেন জো বাইডেন। নির্বাচনেও তার সত্যতা মেলে। তবে নির্বাচনে সহজে জয় পাননি তিনি। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় তার। নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও দেখা দেয় জটিলতা। বাইডেনের এগিয়ে থাকা একাধিক রাজ্যে ভোট পুনর্গননা হয়। কয়েকটি রাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী দল মামলা করে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোট ও আইনি লড়াই উভয়ের ফলই যায় বাইডেনের পক্ষে। নানা নাটকীয়তা শেষে ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তার সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস দেশটির প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন কমলা হ্যারিস। তিনিই দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় নারী যিনি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে শপথ নিয়েছেন।

কৃষ্ণাঙ্গ বাবা আর ভারতীয় মায়ের সন্তান কমলা হ্যারিস ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর ছিলেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ডোমোক্রেটিক দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে জো বাইডেনের কাছে হেরে যান তিনি। পরে বাইডেন তাকে রানিংমেট করেন।

কমলা হ্যারিসের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে। তার বাবা কৃষ্ণাঙ্গ জ্যামাইকান ডোনাল্ড ও মা ভারতীয় মিনা। কমলা ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আল্যামেডা কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নি অফিসে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সান ফ্রান্সিসকো অ্যাটর্নি অফিসে ও সিটি অ্যাটর্নি অব ফ্রান্সিসকো অফিসে যোগ দেন। ২০০৩ সালে তিনি সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে একই পদে পুনঃনির্বাচিত হন।

হোয়াইট হাউজের যাত্রা শুরু ৭৮-এর বাইডেনের
ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে এ পদে দলটির মনোনয়ন পান জো বাইডেন। পরে জো বাইডেন তার রানিংমেট হিসেবে কমলা হ্যারিসের নাম ঘোষণা করেন। কমলা ডেমোক্রেট দলের উদারপন্থী ধারার অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ের ব্ল্যাক লাইভ ম্যাটার্স আন্দোলনে পুলিশের সংস্কারের দাবিতে তিনি নিয়মিত বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে আলোচনায় ছিলেন।

তুখোড় বিতার্কিক কমলা হ্যারিস নারী অধিকারের পক্ষে, বর্ণবাদ বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন
শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত জিলের জন্ম ১৯৫১ সালের ৩ জুন। এবার তিনি প্রথম কোনো ইতালীয়-মার্কিন ফার্স্ট লেডি। নিউ জার্সির হ্যামনটনে জন্ম নেওয়া জিল বাইডেনের বেড়ে ওঠা পেনসিলভ্যানিয়ার উইলো গ্রোভে। ১৯৭৭ সালে তিনি তৎকালীন সিনেটর জো বাইডেনকে বিয়ে করেন।

জিল বাইডেন ইউনিভার্সিটি অব ডেলওয়ারে থেকে স্নাতক এবং ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ওয়েস্ট চ্যাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভিলেনোভা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেছেন তিনি। শিক্ষকতায় তার দীর্ঘ কর্মজীবন রয়েছে। এছাড়া মনোচিকিৎসা হাসপাতালে সংবেদনশীল প্রতিবন্ধী কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষিকা হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি।

হোয়াইট হাউজের যাত্রা শুরু ৭৮-এর বাইডেনের
জো বাইডেনের সঙ্গে স্ত্রী জিল বাইডেন

জিল বাইডেন প্রথম চাকরিজীবী ফার্স্ট লেডি হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সেকেন্ড লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময়ও অধ্যাপনা পেশা ত্যাগ করেননি তিনি। ২০০৯ সাল থেকে তিনি নর্দার্ন ভার্জিনিয়া কমিউনিটি কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে চাকরি করেন। তিনি বাইডেন ব্রেস্ট হেলথ ইনিশিয়েটিভ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, বুক বুডিজ প্রোগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, বিডন ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং গ্রাউন্ডে ডেলওয়ারে বুটস-সহ-প্রতিষ্ঠাতা,তার সঙ্গী মিশেল ওবামাসহ-প্রতিষ্ঠাতা।

এবার জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর জিল বাইডেন এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, ফার্স্ট লেডি হিসেবে হোয়াইট হাউজে থাকা অবস্থায়ও তিনি অধ্যাপনা পেশা চালিয়ে যাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে হোয়াইট হাউজে ফার্স্ট লেডি হিসেবে প্রথম প্রবেশের কৃতিত্বও জিল বাইডেনের। ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ার থেকে ২০০৭ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছিলেন জিল বাইডেন।

জো বাইডেনের কেবিনেট
৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয় নিশ্চিতের পর ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের আগে তার কেবিনেটের একাধিক সদস্যের নাম ঘোষণা করেছেন জো বাইডেন। তার মন্ত্রিসভায় এবার রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া নানা বর্ণ ও ধর্মের সদস্যদের স্থান হয়েছে বাইডেনের ক্যাবিনেটে। তার মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্যই যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যালঘু।

অ্যাটর্নি জেনারেল
গত ৭ জানুয়ারি তার ক্যাবিনেটে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস শাখার প্রধান হিসেবে বাইডেন মনোনয়ন দিয়েছেন বিচারপতি মেরিক গারল্যান্ডকে। তিনি দেশটির পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করবেন। ৬৮ বছর বয়েসি গারল্যান্ড এর আগে সার্কিট জজ হিসেবে কলমবিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

শ্রম বিভাগ
৭ জানুয়ারি শ্রম বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে জো বাইডেন মনোনয়ন দিয়েছেন বোস্টন শহরের মেয়র মার্টি ওয়ালশকে। ৫৩ বছর বয়েসি ওয়ালশ ২০১৪ সাল থেকে বোস্টন শহরের মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আইরিশ-আমেরিকান বংশোদ্ভূত। তবে এ পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির বর্ষীয়ান নেতা বার্নি সেন্ডার্সকেও মনোনয়ন দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন বাইডেন। কিন্তু বার্নি সেন্ডার্স ও জো বাইডেন আলোচনার পর তারা ঠিক করেন, অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে সিনেটেই বরং সেন্ডার্সের আরও অনেক বেশি ভূমিকা পালন করার আছে।

বাণিজ্য বিভাগ
গত ৭ জানুয়ারি জো বাইডেন তার ক্যাবিনেটের বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে রোডে আইল্যান্ডের গভর্নর গিনা রাইমন্ডোর নাম ঘোষণা করেন। গিনা বাইডেনের রানিংমেট হিসেবে মনোনীত হওয়ার দৌড়েও এগিয়ে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ওই পদে মনোনয়ন না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনি।

শিক্ষা বিভাগ
শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পাচ্ছেন মিগুয়েল কার্ডোনা। গত ২২ ডিসেম্বর এ নাম ঘোষণা করেছিলেন জো বাইডেন। মিগুয়েল কার্ডোনা এ পদে প্রথম ল্যাটিনো হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মিগুয়েল নিজে পাবলিক স্কুলের একজন শিক্ষক ছিলেন। দেশটির শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সবসময় জোরালো কণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে মিগুয়েলের।

পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগ
গত ১৯ ডিসেম্বর পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের প্রধান হিসেবে মাইকেল রিগানের নাম ঘোষণা করেন জো বাইডেন। রিগান এ সংক্রান্ত বিভাগে অবশ্য নতুন কোনো নাম নয়। তিনি এ শাখায় ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় প্রশাসনের অধীনে প্রায় এ দশক কাজ করেছেন। রিগান এ বিভাগের বিভাগের প্রধান পদে প্রথম কোনো আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বরাষ্টসচিব
নিউ মেক্সিকোর কংগ্রেস প্রতিনিধি দেব হাল্যান্ডকে স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন জো বাইডেন। তিনি এ পদে প্রথম কোনো আদিবাসী আমেরিকান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

পরিবহণ বিভাগ
গত ১৫ ডিসেম্বর পেট বুটিগেইগকে পরিবহণ বিভাগের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেন বাইডেন। ৩৮ বছর বয়েসি বুটিগেইগ বাইডেনের মন্ত্রিসভায় এখন পর্যন্ত বয়েসে সর্বকনিষ্ঠ। তিনি হতে যাচ্ছেন প্রকাশ্যে ঘোষণা করা প্রথম কোনো সমকামী মন্ত্রী।

জ্বালানি বিভাগ
জ্বালানি বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মিশিগানের সাবেক গভর্নর জেনিফার গ্র্যানহোম। গত ১৭ ডিসেম্বর এ নাম ঘোষণা করেন জো বাইডেন। মহামন্দায় তার রাজ্যে দারুণভাবে নেতৃত্ব দেওয়ায় প্রশংসিত হয়েছেন জেনিফার। এছাড়া ওবামা প্রশাসনেও সবুজ জ্বালানির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তিনি। কানাডার অভিবাসী জেনিফার গ্র্যানহোম এ পদে দ্বিতীয় নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন।

প্রতিরক্ষা বিভাগ
গত ৮ ডিসেম্বর তার মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রতিরক্ষা বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জেনারেল লয়েড অস্টিনের নাম ঘোষণা করেন জো বাইডেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ পদে প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে এ পদে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন তিনি।

কৃষি বিভাগ
আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর টম ভিলস্যাককে কৃষি বিভাগের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন জো বাইডেন। গত ১০ ডিসেম্বরের এ নাম ঘোষণা করেন তিনি। ওবামা প্রশাসনেও এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন টিম ভিলস্যাক।

আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ
গত ১০ ডিসেম্বর ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি মারসিয়া ফুজকে আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেন বাইডেন।

স্বরাষ্ট্র বিভাগ
স্বরাষ্ট্র বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য জো বাইডেনের মনোনয়ন পেয়েছেন আলেজান্দ্রো মায়োরকাস। হাভানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রিফিউজি হিসেবে পাড়ি জমানো আলেজান্দ্রো মায়োরকাস এ পদে মনোনয়ন পান গত ২৩ নভেম্বর।

পররাষ্ট্র বিভাগ
পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন। প্রায় দুই দশক ধরে জো বাইডেনকে পররাষ্ট্র বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছেন এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। গত ২৩ নভেম্বর ত এ পদে তার নাম ঘোষণা করেছিলেন বাইডেন।

অর্থ বিভাগ
গত ৩০ নভেম্বর অর্থ বিভাগের প্রধান হিসেবে সাবেক ফেডারেল রিজার্ভ প্রধান জ্যানেট ইয়েলেনের নাম ঘোষণা করেন বাইডেন। এ পদে প্রথম কোনো নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জ্যানেট ইয়েলেন।

জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগ
এছাড়া জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে জো বাইডেনের মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাভ্রিল হাইনেস। হাইনেস সিআইএ’র সাবেক ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি এ পদে প্রথম কোনো নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চিফ অব স্টাফ
হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ পদে জো বাইডেন বাছাই করেছেন তার দীর্ঘদিনের মিত্র রন ক্লেইনকে। আশির দশক থেকেই বাইডেনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রন ক্লেইন। এর আগে জো বাইডেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট চিফ অব স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি