1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. noushaduddin16@gmail.com : uddin : uddin uddin
  3. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
  4. nooruddinrasel@yahoo.com : nooruddin rasel : nooruddin rasel
  5. sultansumon2050@gmail.com : Sultan Sumon : Sultan Sumon
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন

আজমিরীগঞ্জে আগুনে ছাই হলো ১২ তরুণের ‘স্বপ্ন’

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০

নিউজ ডেস্ক ::ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন ছিল হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার তরুণ সেন্টু আহমেদ জীহানের। কিন্তু নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের এই স্বপ্নবাজ তরুণের সাধ থাকলেও যে সাধ্য ছিল কম। তাই সেই স্বপ্ন পূরণ নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। এসএসসি পাশ করার পর ২০১৪ সালে মা-বাবার কাছ থেকে ৩০ হাজার আর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দেড় লাখ টাকার পূঁজিতে অবশেষে স্বপ্নের বীজ বপন করেন তিনি। কিন্তু সে স্বপ্ন এখন আগুনের পুড়ে ছাই। সব কিছু হারিয়ে এখন তিনি পাগলপ্রায়। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে তাঁর ‘সেবিনা রেফ্রিজেরেটর’ নামের পার্টসের দোকান।

গত ৯ নভেম্বর সোমবার বিকাল ৩ টায় আজমিরীগঞ্জ সদরের লালমিয়া বাজারে লাগা আগুনে নিঃস্ব করে দিয়েছে তাকে।

তরুণ সেন্টু ২০১৪ সাল থেকে দীর্ঘ ৬ বছরে তিল তিল করে শ্রম-ঘাম দিয়ে বড় করে তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটি। ক্ষেতের ফসল, গরু-ছাগল বিক্রি করে বাড়িয়েছেন পূঁজি। এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেই ছিল সব স্বপ্ন। ছোট দুই বোনের লেখাপড়া, বিয়ে। ৫ সদস্যের পরিবারটির বেঁচে থাকার অবলম্বনও ছিল এটি।

সবেমাত্র ব্যবসা থেকে তিনি লাভে মুখ দেখতে শুরু করেছেন। কিন্তু শুরু আগেই পুড়ে ছাই হয়ে গেল স্বপ্নের ‘সেবিনা রেফ্রিজেরেটর’। সর্বনাশা আগুনে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব সেন্টু এখন পাগলপ্রায়।

তেমনই আরেক ব্যবসায়ী সুরনজিত দেবনাথ। অনেক কাটখড় পুড়িয়ে একই সাথে দিয়েছিলেন ‘কাকলী ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’ নামে একটি মোটর সাইকেল সার্ভিসিং ও মেকানিকের দোকান। সম্প্রতি ব্রাক থেকে ঋণ নিয়ে বড় করেছেন প্রতিষ্ঠান। দোকানে তুলেছেন মোটরসাইকেলের বিভিন্ন পার্টস। এখনও ঋণের টাকা পরিশোধ হয়নি। এরই মধ্যে আগুনে সবকিছু শেষ।

শুধু সেন্টু বা সুরনজিত নয়। মাত্র ২ ঘণ্টার আগুনে পুড়েছে সফিকুল মিয়া, আশুতোষ দেব, রাঙ্কু সূত্রধর, অজিত সূত্রধরসহ ১২ জন তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন। সেইদিন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনে ক্ষতি হয়েছিল অন্তত অর্ধকোটি টাকার। সর্বস্ব হারিয়ে এখন তারা পাগল প্রায়।

স্থানীয়দের দাবি, আজমিরীগঞ্জ উপজেলাটি প্রত্যন্ত হাওর অঞ্চলের একটি জেলা। একসময় নৌকা দিয়ে জেলা সদরসহ সারাদেশে যাতায়াতই ছিল উপজেলাবাসীর একমাত্র ভরসা। তখনই আজমিরীগঞ্জে গড়ে উঠে হাওর অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় ‘গঞ্জ’। এমনকি স্থানীয়ভাবে সেই গঞ্জকে ‘ভাটি বাংলার রাজধানী’ বলা হতো। এখানে সওদা করতে আসতেন পার্শ্ববর্তী জেলা কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ, ঢাকার নরসিংদিসহ অনেক উপজেলা ও গ্রামের মানুষ। কিন্তু সেখানে এখনও প্রতিষ্ঠা হয়নি কোন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফলে সেখানে ছোটোখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেই ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক আকার ধারণ করে।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার পাহাড়পুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই বাজারের ৩৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে আনুমানিক প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলায় কোন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকার কারণে অল্প আগুনই নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়। স্থানীয়রা আপ্রাণ চেষ্টা করেও আগুণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। যতক্ষণে আগুন নিয়ন্ত্রণ হয় ততোক্ষণে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হবিগঞ্জ জেলা শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শুধু ছাই পান।

স্থানীয় ব্যবসায়ী পলাশ মিয়া বলেন, ‘আজমিরীগঞ্জ শুধু একটি উপজেলা নয়। হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য এটিকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়েছে ২০০৪ সালে। কিন্তু এখানে জনগুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নাই। যে কারণে সামান্য আগুন লাগলেই ক্ষয়ক্ষতি হয় ব্যাপক।’

আমির হামজা বলেন, ‘প্রায় ২ লাখ মানুষের বাস এই উপজেলায়। হাওরের উপজেলা হওয়ায় এখানে অধিকাংশ দোকানঘরই কাঠের তৈরি। ফলে সহজেই আগুন ছড়িয়ে যায়। প্রতি বছরই আগুন লেগে নিঃস্ব হতে হয় এখানের ব্যবসায়ীদের। তাই এখানে দ্রুত একটি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন নির্মাণ জরুরী।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মতিউর রহমান খাঁন বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তরা সাহায্য পাবেন।

ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, জমি গ্রহণের কাজটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, জমি গ্রহণের কাজ শেষ হলেই যত দ্রুত সম্ভব উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি