1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. noushaduddin16@gmail.com : uddin : uddin uddin
  3. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
  4. nooruddinrasel@yahoo.com : nooruddin rasel : nooruddin rasel
  5. sultansumon2050@gmail.com : Sultan Sumon : Sultan Sumon
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

করোনার ৮ মাস: শনাক্ত ও মৃত্যু হার কমলেও রিল্যাক্সের সুযোগ নেই

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্ত হয় চলতি বছরের ৮ মার্চ। এর পর কখনও বেড়েছে, আবার কখনও কমেছে শনাক্তের হার। তবে সম্প্রতি দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্তের হার অনেকটাই কম। সেইসঙ্গে কমেছে মৃত্যু হারও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার কমে এলেও এতে রিল্যাক্স হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোভিডমুক্ত থাকার জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে ।বিজ্ঞাপন

শনিবার (৭ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানার সই করা কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৬ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা সময়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ১৩ জন মারা গেছেন। এই সময়ে ১১ হাজার ৪১৯টি নমুনা পরীক্ষা করে এক হাজার ২৮৯ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত ২৪ লাখ ২৯ হাজার ৮৪২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে চার লাখ ১৮ হাজার ৭৬৪টি নমুনায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এই সময়ে কোভিডে মারা গেছেন মোট ছয় হাজার ৪৯ জন। এছাড়া বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬৮ জন কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়েছেন।বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ৮ মাসের করোনা পরিস্থিতি

বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম তিনজনের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়। কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যুবরণের ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ। প্রথম দিকে দেশে মৃত্যুহার বেশি থাকলেও সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ার পর এটি কমে আসে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পরে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণের হার কমে এলেও কমেনি মৃত্যুর হার। তবে ৮ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত কোভিড-১৯ শনাক্ত ও মৃত্যুর হার আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে।বিজ্ঞাপন

মার্চের ৮ তারিখ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৭৫৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৬৪ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়। এর মধ্যে ১৭ জন মৃত্যুবরণ করেন। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ৪ দশমিক ৩৬ সংক্রমণ শনাক্ত হলেও মৃত্যু হার ছিল ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ৮ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত দেশে এক লাখ ১ হাজার ২২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১২ হাজার ২৬১ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়। এই সময়ে ১৮২ জন মৃত্যুবরণ করেন, যা শনাক্তের বিপরীতে ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় ১২ দশমিক ১১ শতাংশের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া যায়। ৮ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত সময়ে দেশে দুই লাখ ৯২ হাজার ৪৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এই সময়ে ৫৩ হাজার ৩৪৪ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া যায়, যা নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে ১৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই সময়ে দেশে ৬৮৯ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যান, যা শনাক্তের বিপরীতে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

৮ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত সময়ে দেশে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যা মাসিক হিসেবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই সময়ে ১ লাখ দুই হাজার ৮৭৬ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া যায়, যা নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এই ৩০ দিনেই মূলত বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক কোভিড-১৯ সংক্রমিত পাওয়া যায়। ওই ৩০ দিনে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এক হাজার ২৬৩ জন, যা এখন পর্যন্ত এক মাসে সর্বোচ্চ। এই মাসের পরিসংখ্যান লক্ষ্য করে দেখা যায়, করোনা শনাক্তের তুলনায় ১ দশমিক ২৩ শতাংশ মৃত্যুবরণ করেছেন, যা আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কম।

৮ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৩ হাজার ৮৫৭ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়। নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে এই মাসে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া যায়, যা শতাংশ হিসেবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই সময়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যায় এক হাজার ১৮২ জন, যা শনাক্তের তুলনায় ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। ৮ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ৪ লাখ ৬ হাজার ৯০১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এই সময়ে ৭৪ হাজার ৮৫৭ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া যায়, যা নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। এই সময়ে ১ হাজার ১৮৩ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, যা শনাক্তের অনুপাতে ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।বিজ্ঞাপন

৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশে তিন লাখ ৮২ হাজার ১৮০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৫ হাজার ৭৯২ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়। নমুনা পরীক্ষা বিপরীতে এই মাসে শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ম। তবে এই সময়ে দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯২৪ জন। শনাক্তের বিপরীতে এই মাসে মারা গেছেন ২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, যা বিগত মাসগুলোর চেয়ে বেশি। ৮ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে চার লাখ তিন হাজার ৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৫ হাজার ৬১৩ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়। নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে এই মাসে শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ম। এই সময়ে দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬০৯ জন। শনাক্তের বিপরীতে এই মাসে মারা গেছেন ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা বিগত মাসের তুলনায় কম।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

কোভিড প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও ভাইরোলজিস্ট ডা. নজরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের যে হার তা আসলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। তবে এটি কেন কম?- তা নিয়ে এখনও কিছু ভাবনার বাকি আছে। নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে। কারণ, অনেকেই এখন নমুনা পরীক্ষা নিয়ে অনীহা প্রকাশ করছেন। সেইসঙ্গে আমাদের মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম হলেও আগের চেয়ে এখনও আমাদের শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা একটা স্টেডি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক এই উপাচার্য আরও বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হলো— শনাক্তের হার কমেছে বলে কিন্তু রিল্যাক্স থাকা যাবে না। কারণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী যদি বলা হয় তবে এই মাত্রা পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরেই বলতে হবে। আর এক্ষেত্রে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। সেইসঙ্গে বাড়াতে হবে নমুনা পরীক্ষাও। সবাইকে নমুনা পরীক্ষার আওতায় আনা না গেলে পরিস্থিতি বোঝা আসলে কষ্টকর। প্রথম দিকে মানুষজন যখন বাসায় ছিল তখন স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা হলেও মানা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত নজরদারি রাখা গেছে। মানুষজন নমুনা পরীক্ষা করিয়েছে সময় মতো। তবে বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি কিন্তু তেমন মানা হচ্ছে না। আমরা লকডাউন ও রোগী শনাক্ত কোনোটাই করতে পারছি না। একদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, আবার অন্যদিকে নমুনা পরীক্ষায় অনীহা- এই দুই মিলে মৃত্যুর হার বাড়ছে। অথচ আমরা যদি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্বাচন করে নমুনা পরীক্ষা ও আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে পারতাম তবে হয়তো তা কিছুটা হলেও আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করতো।’

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কার্যকরী সদস্য ডা. মোশতাক হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘দেশে কোভিড-১৯ শনাক্ত ও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের সংখ্যাটা এখন যে অবস্থায় আছে তাকে আমরা বলতে পারি একটা স্থিতিশীল অবস্থা। এই অবস্থা খুব বেশি ভালো হয়ে গেছে তেমনটা বলার সুযোগ নেই। কারণ আমাদের এখানে মাস খানেক যাবৎ দেখা যাচ্ছে যে, সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা একটা শতাংশের ঘরের আশেপাশেই থাকছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনোভাবেই এই শতাংশের হার বেড়ে না যায়।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ এখন স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এটি বিপদজনক হতে পারে। আমরা এখন পর্যন্ত যে নমুনা পরীক্ষা করছি তাতে শনাক্তের পরিমাণ কিন্তু একেবারে যে কম তাও কিন্তু নয়। হ্যাঁ এই ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে এটা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে আসলে শনাক্তের হারও একদম কমে গেছে সেটা বলা যাবে না। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে দেখা হয় তবে এই শনাক্তের হার কিন্তু একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আশেপাশে থাকছে। আবার মৃত্যুহার কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই থাকছে। আমাদের নমুনা পরীক্ষার হার বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভব হলে এলাকাভিত্তিক আইসোলেশন ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে হয়তো সংক্রমণের মাত্রা আরও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। তবে সংক্রমণের মাত্রা ৫ শতাংশের নিচে নামার পর তিন সপ্তাহের মতো সে সংখ্যায় স্থির না থাকলে নিশ্চিন্ত হওয়ার কিছু নেই। সকলকে সম্মিলিতভাবে এইগুলো নিয়ে ভাবা দরকার ও সচেতনভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দরকার।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন সারাবাংলাকে বলেন, ‘এই আট মাস সময়ে আমরা পরিসংখ্যান দেখছি তাতে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কিছু নেই। আমাদের নমুনা পরীক্ষার হারের তুলনায় শনাক্ত ও মৃত্যুর হার একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির আশেপাশেই থাকছে। এটি যদি এভাবে থাকে তবে আমরা বলতে পারি, স্টেডি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সংক্রমণের হার।’

তিনি বলেন, ‘শীতকালে এমনিতেই আমাদের দেশের মানুষজন শ্বাসকষ্টজনিত কিছু রোগে ভোগে। এর মধ্যে ডেঙ্গুতেও ইদানিং অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আমাদের আসলে কোনোভাবেই রিল্যাক্স থাকার সুযোগ নেই। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। জ্বর, সর্দি, কাঁশি বা যেকোনো শারীরিক অসুস্থতার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বর্তমানে নমুনা পরীক্ষায় অনীহার কারণে অধিকাংশ সময়ে উপসর্গহীন রোগীদের প্রথমদিকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। যখন শনাক্ত করা হচ্ছে তখন হয়তোবা হাসপাতালে নিতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই আবার দেখা যাচ্ছে, কো-মর্বিডিটি আছে এমন রোগীকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পরবর্তী সময়ে যখন হাসপাতালে আনছেন তখন আর কিছুই করার থাকছে না। এসব কারণেও মৃত্যু হার বাড়ছে। সামনের দিনগুলোতে তাই এই নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। যেটিকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি। সেইসঙ্গে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে এর কোনো বিকল্প নেই।’

ডেঙ্গুসহ শীতকালীন সকল রোগ এবং কোভিড-১৯ বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানান অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন।

দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন ও প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি একটা স্টেডি গ্রাফ আকারে যাচ্ছে। এটাতে আসলে ভালো কিছু হয়েছে বা আমাদের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এমনটা ভেবে রিল্যাক্স থাকার কোনো সুযোগ নেই। বরং সামনের দিনগুলোতে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে, যাতে পরিস্থিতি এর চেয়ে বেশি খারাপের দিকে না যায়। সবাইকে তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এছাড়া আসলে আর অন্য কোনো উপায় নেই।

এদিকে সংক্রমণের মাত্রা কম থাকা বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সারাবাংলাকে বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ এখন পৃথিবীতে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে। তবে এতে আমরা থেমে থাকতে চাই না। সামনের দিনগুলোতে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। প্রথমদিকে আমাদের নমুনা পরীক্ষাগারের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। কিন্তু আমরা দ্রুততম সময়ে অনেকগুলো ল্যাব স্থাপন করেছি। ১১৪টি ল্যাবে এখন আমাদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমি তাই সবাইকে আহ্বান জানাই, যদি লক্ষণ থাকে তবে অবশ্যই নমুনা পরীক্ষা করান। সময় মতো নমুনা পরীক্ষা করার পরে যদি চিকিৎসা নেওয়া যায় তবে মৃত্যুর হার আরও কমে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে ভ্যাকসিনের বিষয়ে। তবে তার আগে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি