1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. noushaduddin16@gmail.com : uddin : uddin uddin
  3. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
  4. nooruddinrasel@yahoo.com : nooruddin rasel : nooruddin rasel
  5. sultansumon2050@gmail.com : Sultan Sumon : Sultan Sumon
সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

মিরাজের সেঞ্চুরিতে চালকের আসনে বাংলাদেশ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষের স্কোরকার্ড যেন বোকা কণ্ঠে একটি বার্তাই দিচ্ছে, চালকের আসনে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাকফুটে। বাংলাদেশকে ফুরফুরে অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার বড় নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি মূলত বল হাতের কারিগর। বলের ঘুর্ণিতে কাবু করে থাকেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু আজ চট্টগ্রামে মেহেদী হাসান মিরাজ নিজের কারিশমাটা দেখিয়েছেন ব্যাট হাতে।

ওপেনার সাদমান ইসলাম ও সাকিব আল হাসান আশা জাগিয়েও যেটা করতে পারেননি, নিখাঁদ ব্যাটসম্যান সেজে মিরাজ সেটাই করে দেখিয়েছেন চট্টগ্রামে। করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই এটা তার প্রথম সেঞ্চুরি। একে তো বোলার। তার উপর সেঞ্চুরিটা তিনি করেছেন ৮ নম্বরে নেমে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ১০৩ রানের আলো ঝলমলে এক ইনিংস। তার সেঞ্চুরি এবং সাদমান-সাকিবের হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গড়েছে ৪৩০ রানের পুঁজি।

জবাব দিতে নেমে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ৭৫ রান করে। ফলে এখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৫ রানে পিছিয়ে। তাদের হাতে রয়েছে ৮টি উইকেট। মোস্তাফিজের তোপের মুখে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ২৪ রানেই। শুরুর দিকেই জোড়া আঘাতে বাংলাদেশের স্বস্তিটা আরও রাঙিয়ে দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। জন ক্যাম্পবেলকে ৩ ও শাইনি মোসেলিকে ফিরিয়ে দেন ব্যক্তিগত ২ রানে।

কিন্তু এরপর আর কেউই উইকেট উৎসব করতে পারেননি। ক্যারিবীয় অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাফেট ও এনক্রুমাহ বোনের জুটি বেঁধে দিনের বাকি সময়টা নিরাপদেই কাটিয়ে দিয়েছেন। দিন শেষে তারা গড়েছেন ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ক্রেইগ ব্রাফেট পৌঁছে গেছেন ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরির দ্বোরগোড়ায়। দিন শেষে তিনি ব্যাট করছেন ৪৯ রানে। তার সঙ্গী এনক্রুমাহ বোনের অপরাজিত ১৭ রান করে।

এই জুটি এরই মধ্যে বাংলাদেশের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন। কাল যত তাড়াতাড়ি এই জুটি খসানো যাবে, বাংলাদেশের জন্য ততই ভালো। কিন্তু সেটা কি হতে দেবেন ক্রেইগ ব্রাফেট-বোনেররা? কাল কি হবে, সেটা কালই জানা যাবে। আজ এই জুটি ভাঙার আপ্রান চেষ্টাই করেছেন বাংলাদেশের ৫ বোলার মোস্তাফিজ, সাকিব, মেহেদী মিরাজ, নাঈম হাসান, তাইজুলরা। কিন্তু তাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ করে দিয়েছেন ব্রাফেট-বোনের।

তার আগে বাংলাদেশ দিনটা শুরু করে ৫ উইকেটে ২৪২ রান নিয়ে। এই পুঁজি নিয়ে দিনটা নতুন করে শুরুর করার প্রত্যয়ে মাঠে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান সাকিব ও লিটন দাস। কিন্তু আজ মাত্র ৬ রান যোগ করতেই ভেঙে যায় তাদের জুটি। মানে ২৪২ রান নিয়ে শুরু করে ২৪৮ রানে গিয়েই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলের সংগ্রহ ২৫০ ছোঁয়ার আগেই ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন লিটন দাস। ফেরার আগে তিনি করেছেন ৩৮ রান।

লিটনের বিদায়ের পর বাংলাদেশ ৩০০ ছুঁতে পারবে কিনা, তা নিয়েই সংশয় ছিল। সাকিব ও মিরাজের কল্যাণে বাংলাদেশ সেই শঙ্কাই শুধু দূর করেনি, ৩০০-এর পর ৪০০-ও পেরিয়ে গিয়ে অলআউট হয়েছে ৪৩০ রানে। প্রথমে সাকিব ও মিরাজের ৬৭ রানের জুটিতে ৩০০ পেরোয় বাংলাদেশ। এ সময় আশা ভরসার সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে জ্বলছিলেন সাকিব। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে টেস্ট প্রত্যাবর্তনেই হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সাকিব স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সেঞ্চুরিরও।

কিন্তু তিন অঙ্কের স্বপ্নটা পূরণ করতে পারেননি তিনি। নিজের পছন্দের শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন ব্যক্তিগত ৬৮ রানে। সপ্তম উইকেট হিসেবে তিনি আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের নামের পাশে ৩১৩ রান। বাইরে তখন তাইজুল, নাঈম হাসান ও মোস্তাফিজ। লেজের দিকের এই তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে মিরাজ দলকে কত দূর আর নিতে পারবেন! তা দলকে অনেক দূরেই নিয়ে গেছেন মিরাজ। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক অনেক উপরে। শেষের তিনজনকে নিয়ে তিনি যোগ করেছেন আরও ১১৭ রান!

এর মধ্যে তাইজুলের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে গড়েন ৪৪ রানের জুটি। দলকে ৩৫৯ রানে রেখে ১৮ রান করা তাইজুল আউট হওয়ার পর উইকেটে আসেন নাঈম হাসান। তার সঙ্গে নবম উইকেটে মিরাজ গড়েন ৫৭ রানের জুটি। এই জুটিও ভাঙে ২৪ রান করে নাঈম হাসানের বিদায়ে। এরপর মোস্তাফিজকে নিয়ে শেষ উইকেটে জুটি বাঁধেন মিরাজ। তা মোস্তাফিজ তাকে ভালোই সঙ্গ দিতে শুরু করেছিলেন।

কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়ার আন্দ যেন মিরাজের মনোযোগ চিড় ধরায়। সেঞ্চুরির পরপরই তাই মিরাজ নিজেই আউট হয়ে যান ১০৩ রান করে। তার বিদায়ের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের যবনিকা ঘটে ৪৩০ রানে দাঁড়িয়ে। শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজ অপরাজিত ছিলেন ৩ রানে।

ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। তিনি ১৩৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। আরেক স্পিনার রাহকিম কর্নওয়াল নিয়েছেন ২ উইকেট। এছাড়া কেমার রোচ, শেনন গ্যাব্রিয়েল ও এনক্রুমাহ বোনের একটি করে উইকেট নিয়েছেন। অন্যটি রানআউট। ক্যারিবীয় স্পিনারদের সাফল্য বাংলাদেশকে অন্য রকম একটা স্বস্তিই এনে দিয়েছিল। বাংলাদেশ এই টেস্টটা খেলতে নেমেছে ৪ স্পিনার নিয়ে।

কিন্তু বল হাতে বাংলাদেশের ৪ স্পিনার সাকিব, মিরাজ, নাঈম, তাইজুল আজ কিছুই করতে পারেননি। যা করার করেছেন একমাত্র পেসার মোস্তাফিজই। শুরুর দিকেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে মোস্তাফিজ স্পিনারদের জন্য উইকেট প্রাপ্তির রাস্তাটা খুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সাকিব-মিরাজ-তাইজুল-নাঈমরা মোস্তাফিজের দেখানো পথে হাঁটতে পারেননি। তবে আজ না পারলেও কাল নিশ্চয় পারবেন?

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ : ৪৩০ (সাদমান ৫৮, তামিম ৯, নাজমুল হোসেন শান্ত ২৫, মুমিনুল হক ২৬, মুশফিক ৩৮, সাকিব ৬৮, লিটন দাস ৩৮, মিরাজ ১০৩, তাইজুল ১৮, নাঈম ২৪, মোস্তাফিজ ৩*; ওয়ারিকান ১৩৩/৪, কর্নওয়াল ১১৪/২, বোনের ১৬/১, রোচ ৬০/১ ও গ্যাব্রিয়েল ৬৯/১)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ২৯ ওভারে ৭৫/২ (ক্রেইগ ব্রাফেট ৪৯*, জন ক্যাম্পবেল ৩, শাইনি মোসেলি ২, এনক্রুমাহ বোনের ১৭*; মোস্তাফিজ ১৮/২)।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি