1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. noushaduddin16@gmail.com : uddin : uddin uddin
  3. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
  4. nooruddinrasel@yahoo.com : nooruddin rasel : nooruddin rasel
  5. sultansumon2050@gmail.com : Sultan Sumon : Sultan Sumon
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

বাংলাদেশিদের ভুলের ফায়দা তুলে উইন্ডিজের ঐতিহাসিক জয়

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

ক্যাচ মিস মানে ম্যাচ মিস। অর্থৎ জয় হাতছাড়া। চট্টগ্রামের টেস্টের পঞ্চম দিনে বাংলাদেশ শুধু ক্যাচ মিসই করেনি, ভুল করেছে আরও। স্টাম্পিং মিস করেছে, রিভিউ নেওয়ার সুযোগ থাকতেও রিভিউ না নিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জীবন দিয়েছে। এই মিস ভুলের চড়া মূল্যই দিতে হলো বাংলাদেশকে। জয় দেখতে পাওয়া ম্যাচে হারতে হলো। বাংলাদেশিদের ভুলের ফায়দা তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। তুলে নিয়েছে ঐতিহাসিক জয়।

চতুর্থ ইনিংসে ক্যারিবীয়দের ৩৯৫ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এই চ্যালেঞ্জ তাড়া করে এই অনভিজ্ঞ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতবে, এমনটা কল্পনা করাও ছিল কঠিন। কিন্তু বাসত্বে অসম্ভবকে সম্ভবই করে দেখালেন অভিষিক্ত কাইল মেয়ার্স। ইতিহাসের ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকেই ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২১০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ক্যারিবীয়দের পাইয়ে দিয়েছেন অবিশ্বাস্য এক জয়। মেয়ার্সের ব্যাটে চড়ে ক্যারিবীয়দের জয়টা ৩ উইকেটে।
চতুর্থ ইনিংসে এটা ক্যারিবীয়দের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ গড়েছে ২০০৩ সালে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতেছিল ৪১৮ রান তাড়া করে। সেই জয়টা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরের মাঠে, ৩ উইকেটে। আজকের জয়টিও সেই ৩ উইকেটেই। দেশের বাইরে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাওয়া এই জয়টাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ক্যারিবীয়দের। সব মিলে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
রেকর্ড গড়া এই জয়ে মেয়ার্সই মূল নায়ক। তবে এনক্রুমাহ বোনেরের অবদানও কম নয়। অসম্ভবকে সম্ভব করার কাজটা তারা করেছেন মূলত দুজনে মিলেই। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ক্যারিবীয়রা এক পর্যায়ে ৫৯ রানেই হারিয়েছিল ৩ উইকেট।েএরপর জুটি বাঁধেন বোনের ও মেয়ার্স। দুজনে মিলে চতুর্থ উইকেটে গড়েছেন ২১৬ রানের রেকর্ডময় জুটি। তাদের এই জুটিই এঁকে দেয় জয়ের চিত্রটা।

এরপরও বোনের আউট হয়ে যান দলকে ২৭৫ রানে রেখে। জয়ের জন্য তখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ১২০ রান। ফলে তখনো বাংলাদেশের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিলই। কিন্তু মিরাজ, তাইজুল, নাঈম, মোস্তাফিজরা ঝলসে উঠতে পারেননি। বরং বাংলাদেশি বোলার-ফিল্ডারদের হতাশার আগুনে পুড়িয়ে জয়ের বাকি কাজটুকু বলতে গেলে একাই সেরেছেন মেয়ার্স। দলকে পৌঁছে দিয়েছেন জয়ের লক্ষ্যে (৩৯৫/৭)।

শেষ দিকে দানবীয় রূপ ধারণ করে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন মেয়ার্স। যিনি ১৫০ করতে ছক্কা মেরেছিলেন ২টি, চার মেরেছিলেন ১৭টি, সেই মেয়ার্স পরের ৬০ রান করার পথে ছক্কা মেরেছেন আরও ৫টি। চার ৩টি। মানে পরের ৬০ রানের মধ্যে ৪২ রানই তিনি করেছেন ছক্কা ও চার থেকে! সব মিলে রেকর্ডময় ইনিংসে মেয়ার্স ছক্কা মেরেছেন ৭টি, চার ২০টি।

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ৪টা দিন অবিশ্বাস্য কাটিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছেন। পরে বল হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছেন ৮ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৪টি, দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪টি। কিন্তু মিরাজ আসল দিনেই ব্যর্থ। আজ পঞ্চম দিনে মাত্র একটি উ্ইকেট নিতে পেরেছেন। সেটিও দলের হার নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর। সেঞ্চুরি ও ৮ উইকেট নেওয়ার পরও তাকে শেষ দিনে মাঠ ছাড়তে হলো হতাশায় মুখ ঢেকে। তার কীর্তিকে ছাপিয়ে এক ইনিংস দিয়েই ম্যাচের নায়ক বনে গেছেন কাইল মেয়ার্স। ঢুকে পড়েছেন রেকর্ডের একাধিক পাতায়। স্বাভাবিকভাবেই অবিশ্বাস্য এই জয়ে ম্যাচসেরার পুরষ্কারটি উঠেছে মেয়ার্সের হাতেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ৪৩০ ও ২২৩/৮ (ডিক্লেয়ার)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ২৫৯ ও ৩৯৫/৭
ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কাইল মেয়ার্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি