1. hmgrobbani@yahoo.com : admin :
  2. noushaduddin16@gmail.com : uddin : uddin uddin
  3. news@soroborno.com : Md. Rabbani : Md. Rabbani
  4. nooruddinrasel@yahoo.com : nooruddin rasel : nooruddin rasel
  5. sultansumon2050@gmail.com : Sultan Sumon : Sultan Sumon
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১২:৪৬ অপরাহ্ন

হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: কওমি মাদরাসাভিত্তিক ‘অরাজনৈতিক’ সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে হেফাজতের কার্যক্রম ফের শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। বিজ্ঞাপন

রোববার (২৫ এপ্রিল) রাতে হেফাজত আমির হিসেবে দেওয়া সবশেষ ভিডিওবার্তায় বাবুনগরী কমিটি বিলুপ্তির এ ঘোষণা দেন। পরে ভিডিওবার্তাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়।

সংক্ষিপ্ত ভিডিওবার্তায় জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অরাজনৈতিক সংগঠন, দ্বীনি সংগঠন, ইমান-আকিদার সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের পরামর্শক্রমে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। ইনশাল্লাহ আগামীতে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে আবার হেফাজতে ইসলামের কার্যক্রম শুরু হবে।’

এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতা করে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফের আলোচনায় আসে হেফাজতে ইসলাম। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিন ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়। যদিও হেফাজত প্রধান বাবুনগরী একপর্যায়ে দাবি করেছিলেন, নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন ঘিরে ২৬ মার্চ তাদের কোনো কর্মসূচি ছিল না।

২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হেফাজতের নাশকতা, ভাঙচুরের ঘটনায় বিভিন্ন জেলায় বেশকিছু মামলা হয়। এসব মামলায় গত কয়েকদিনে গ্রেফতার করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের অন্তত ডজনখানেক কেন্দ্রীয় নেতা।

এদিকে হেফাজতের সহিংসতার ঘটনার পর পরই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রিসোর্টে নারী নিয়ে অবরুদ্ধ হন সংগঠনটির অন্যতম নেতা মামুনুল হক। এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। ওইদিন তাকে হেফাজতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা রিসোর্ট ভেঙে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার দিন সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মী‌দের আসামি করে তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় মামুনুল হক প্রধান আসামি। মামলা দায়েরের পর মামুনুল বেশ কিছুদিন পালিয়ে বেড়ালেও গত ১৮ এপ্রিল তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানায় গত বছর দায়ের করা এক মামলায় বর্তমানে রিমান্ডে আছেন তিনি।

এছাড়া হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক মুফতি শরীফ উল্লাহকে গত ১৩ এপ্রিল গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এর আগে ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে হেফাজতের সহ অর্থ সম্পাদক মুফতি ইলিয়াসকেও। এছাড়া হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সহ-সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমদকে গত ১৬ এপ্রিল গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি মুফতি আমিনীর জামাতা।

২০ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা কোরবান আলী কাসেমীকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। আর ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয় হেফাজতের নায়েবে আমির আহমদ আব্দুল কাদেরকে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের একের পর এক গ্রেফতারের মধ্যেই হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করলেন বাবুনগরী। এতে করে ইসলাম ধর্মভিত্তিক দেশের বৃহত্তম সংগঠনটির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেল। বিজ্ঞাপন

এর আগে মূলত ২০১৩ সালে ‘শাপলা চত্বর’ ঘেরাও-অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসে হেফাজতে ইসলাম। হাটহাজারী মাদরাসার ‘বড় হুজুর’ হিসেবে পরিচিত প্রয়াত আল্লামা আহমদ শফীই ছিলেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, আমির ও কেন্দ্রবিন্দু। তার মৃত্যুর পরেই হেফাজত একাধিক ধারায় বিভক্তও হয়ে পড়ে।

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি